ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে ইতিহাস রচনা করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক জোহরান মামদানি। ৩৪ বছর বয়সি এই প্রগতিশীল নেতা নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জয়লাভ করে শহরের প্রথম মুসলিম এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় মেয়র হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি অল্প বয়সেই পরিবারের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই তরুণ রাজনীতিক নিউইয়র্কের অ্যাসেম্বলির সদস্য ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল সাধারণ মানুষের সমস্যা ঘিরে, বিশেষত অভিবাসী, শ্রমজীবী ও তরুণ প্রজন্মের অধিকার রক্ষার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
নির্বাচনী প্রচারে মামদানি জোর দিয়েছিলেন জনকল্যাণমূলক নানা বিষয়ে সবার জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান, বিনামূল্যে গণপরিবহন ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর মতো প্রতিশ্রুতিগুলিতে। তাঁর প্রচারে প্রভাব ফেলেছিল শহরের তরুণ ভোটার ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের সক্রিয় অংশগ্রহণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, নিউইয়র্কের এই ফলাফল শহরের রাজনৈতিক মানসিকতার এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
নতুন দায়িত্বে জোহরান মামদানির সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম নগর প্রশাসন হিসেবে নিউইয়র্ক শহরের বাজেট পরিচালনা, বাসস্থান ও ভাড়া সংক্রান্ত সংকট, গণপরিবহন সমস্যা, পুলিশ প্রশাসন ও কর কাঠামো সংস্কারের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁকে নেতৃত্ব দিতে হবে। সমালোচকদের মতে, উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা না থাকায় এই দায়িত্ব তাঁর জন্য কঠিন হতে পারে, তবে তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে তাঁর সাহসী দৃষ্টিভঙ্গিই শহরবাসীর প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
নিউ ওয়ার্ক সিটির মেয়র পদের জন্য একই আসনে লড়েছিলেন সাবেক গভর্নর অ্যান্ডু কোওমো এবং রিপাবলিকানের প্রার্থী কার্তিস স্লিওয়া। এই দুই দুই তাবড় তাবড় নেতাদের পিছনে ফেলে বিপুল ভোটে জিতেছেন অপেক্ষাকৃত বয়সে ছোট মামদানী। কিন্তু মামদানীর এই জয়ে বেশ নারাজ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি আগেই জানিয়েছিলেন যদি মামদানী জেতেন তাহলে নিউ ওয়ার্কের জন্য বরাদ্দ অর্থ তহবিল থেকে দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরও দাবি করেন মামদানীর এই জয়ের পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টি আরও বামপন্থার দিকে ঠেলে দেবে।
