ওঙ্কার ডেস্ক: মেক্সিকো ভারতসহ একাধিক এশিয়ান দেশের পণ্যের উপর বড়সড় আমদানি শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সেনেটে অনুমোদিত এই নতুন বিধান অনুযায়ী ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ভারতের বেশ কিছু রপ্তানি পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসবে। মূলত যেসব দেশের সঙ্গে মেক্সিকোর কোনও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নেই, তাদের পণ্যই এই শুল্ক বৃদ্ধির আওতায় এসেছে। ফলে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড এবং ইন্দোনেশিয়া সরাসরি এই নীতির প্রভাব ফেলবে।
মেক্সিকো সরকার দাবি করেছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষা ও শক্তিশালী করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশ মেক্সিকোর দেশীয় উৎপাদনকে চাপে ফেলে দিয়েছে। বিশেষত মোটরগাড়ি, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, ইস্পাত, প্লাস্টিক, বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্পজাত পণ্যের বাজার বিদেশি আমদানির উপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সেই কারণেই সরকার চায় আমদানি কমিয়ে দেশীয় শিল্পকে টিকে থাকার সুযোগ দিতে।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেক্সিকোর কিছু ব্যবসায়িক সংগঠন আপত্তি জানালেও সরকার তা উপেক্ষা করে আইনটি পাশ করিয়েছে। ব্যবসায়ীদের যুক্তি, অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটবে এবং পণ্যের দাম বাড়বে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও উত্তেজনা তৈরি হতে পারে, কারণ বহু দেশ এই শুল্ক বৃদ্ধিকে বাণিজ্য-বাধা হিসেবে দেখছে। বিশেষত গাড়ি শিল্পে বড় অভিঘাত পড়তে পারে, কারণ ভারতের পাশাপাশি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া মেক্সিকোতে বিশাল পরিমাণে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ রপ্তানি করে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত মেক্সিকোর অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতির দ্বৈত চাপ থেকে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তির চাপও এখানে কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বাণিজ্য নীতির সঙ্গে সমন্বয় রাখতেই মেক্সিকো এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। মেক্সিকো ভারতের মোটরগাড়ি রপ্তানির অন্যতম বড় বাজার। নতুন শুল্ক চালু হলে ভারতীয় গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোর খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। ব্যবসায়িক মহলের ধারণা, এর ফলে ভারতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং নতুন বাণিজ্যনীতি ও বাজার কৌশল নির্ধারণে চাপ বাড়বে।
পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক দেশই নজর রাখছে ভারত, চীন বা অন্যান্য প্রভাবিত দেশ কীভাবে এই নীতির প্রতিক্রিয়া জানায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব বাণিজ্যে যে সুরক্ষাবাদী নীতি ক্রমশ বাড়ছে, মেক্সিকোর এই সিদ্ধান্ত তারই সর্বশেষ উদাহরণ। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে কী পরিবর্তন আনে।
