ওঙ্কার আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধে ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ১৯ মে সেই আক্রমণ শানানোর কথা থাকলেও তা স্তগিত করার কথা বলেছেন তিনি। হোয়াইট হাউস সুত্রে খবর, বর্তমানে তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলমান থাকায় শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্প্রতি, এই হামলা স্থগিত করার বিষয়টি তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট “দ্য ট্রুথ” তে পোস্ট করে জানিয়েছেন।
সেই পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলির পরামর্শে ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা কিছু সময়ের জন্য থামিয়েছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে এই যুদ্ধ পরিস্থতির ফলে আমেরিকার অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দা। কেবল মাত্র আমেরিকা নয় ইরানের অভ্যন্তরেও তৈরি হয়েছে বিরাট পরিমানে অর্থনৈতিক মন্দা। মুলত এই কারনে আমেরিকা আর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাইছে না। কেবল মাত্র ইরানকে অর্থনীতিক ভাবে দুর্বল করে দিতে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখতে চাইছে। এর ফলে আমেরিকার হবে পরোক্ষ লাভ। তবে হামলা স্থগিত করলেও ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির প্রধান শর্ত হবে— ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যানিয়েল কেইনসহ সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হলে যেকোনো সময় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিশেষ করে কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো আঞ্চলিক মিত্ররা উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।