বিগত ৪ মের পর থেকে বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া। তৃণমূলের ভরাডুবির পর দল নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন অনেকেই। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর বারাসতের সাংসদ ডা. কাকলি ঘোষদস্তিদার ‘চার দশকের আনুগত্য’-র উপহার পেয়েছেন বলে ফেসবুকে দাবি করেছিলেন। সূত্রের খবর, ১৮ মে থেকে কেন্দ্রীয় সিআইএসএফের নিরাপত্তা পাচ্ছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার। এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
কেন তাঁকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ঘুরতে শুরু করেছে। যদিও এ বিষয়ে বিতর্ক বাড়াতে চাননি সাংসদ নিজে। তিনি শুধু জানিয়েছেন, “জানা নেই, বলতে পারব না।” তৃণমূলের তরফেও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কেউ মুখ খোলেনি। তৃণমূল সাংসদ একা নন, কয়েকদিন আগেই সামাজিক মাধ্যমে দলের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন কাকলির ছেলেও।
২০০৯ সাল থেকে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি তৃণমূলের পরিচিত মুখ। ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেত্রী হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি। পালা বদলের পর গত ১৫ মে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে তৃণমূল সাংসদদের বৈঠকের পর লোকসভায় দলের মুখ্যসচেতকের পদ থেকে সরানো হয় কাকলিকে। তাঁর জায়গায় ফেরানো হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সিদ্ধান্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, ‘৭৬ থেকে পরিচয়, ৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।’ যদিও এহেন পোস্টে কারো নাম উল্লেখ করেননি তৃণমূল সাংসদ। রাজনৈতিক মহলের একাংশ ওই পোস্টকে রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন।