ওঙ্কার ডেস্কঃ সোমবার সকালে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন সোনা পাপ্পু। সারাদিনের ম্যারাথন জেরার পর অবশেষে তাঁকে গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। জমি প্রতারণা এবং সিন্ডিকেট-তোলাবাজির মামলায় সোমবার সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেন ইডি আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে তাঁর বিপুল সম্পত্তি, আর্থিক লেনদেন এবং জমি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশ্ন করা হলেও, তিনি বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি, এই মামলার দুই মূল চক্রী জয় কামদার এবং শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের সঙ্গে তাঁর যে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত যোগ ছিল, জেরার মুখে তাও সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন সোনা পাপ্পু।
মঙ্গলবার তাঁকে বিশেষ ইডি আদালতে পেশ করা হবে। ইডি আদালতে কী কী ধারা বা চার্জ গঠন করে এবং নতুন করে কী কী বিস্ফোরক তথ্য পেশ করে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহলের।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাসিন্দা সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে কসবা ও গড়িয়াহাট চত্বরে প্রোমোটিং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, বেআইনি জমি দখল, হুমকি ও তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা রুজু হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই বিপুল পরিমাণ বেআইনি আর্থিক লেনদেনের খোঁজে গত এপ্রিল মাসে পাপ্পুর ডেরায় ম্যারাথন তল্লাশি চালায় ইডি। সেই অভিযানে তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়, প্রায় ২ কোটি টাকা। একটি অতীব মূল্যবান ও দামি চারচাকা গাড়ি এবং কোটি কোটি টাকার একাধিক সন্দেহভাজন সম্পত্তির দলিল ও নথিপত্র।
পুলিশকর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস এবং ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেফতারের পর সোনা পাপ্পুর গ্রেফতার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাঝেমধ্যে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সমাজমাধ্যমে ‘লাইভ’ করলেও এতদিন অধরাই ছিলেন তিনি। অবশেষে ইডির জালে ধরা পড়ল সোনা পাপ্পু।