ওঙ্কার ডেস্ক: স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রেলস্টেশন-সহ জনবহুল ও সংবেদনশীল এলাকা থেকে পথকুকুর সরানোর বিষয়ে আগের অবস্থানেই অনড় থাকল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, মানুষের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের প্রশ্নে আগের নির্দেশে কোনও পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও নির্ভয়ে বেঁচে থাকার অধিকারকে অগ্রাধিকার দিতেই এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত কয়েক মাস আগে, যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পথকুকুরের আক্রমণ, বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের উপর হামলার একাধিক ঘটনা সামনে আসে। সেই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে পথকুকুরদের সরিয়ে নিয়ে গিয়ে তাদের টিকাকরণ ও বন্ধ্যাকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানায়, একবার সরিয়ে নেওয়ার পরে সেই কুকুরদের আর আগের এলাকায় ফিরিয়ে আনা যাবে না।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে কয়েকটি পশুপ্রেমী সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায়। তাদের দাবি ছিল, প্রাণীদেরও বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে এবং পরিচিত পরিবেশ থেকে সরিয়ে দিলে তাদের উপর মানসিক ও শারীরিক প্রভাব পড়তে পারে। আবেদনকারীদের বক্তব্য, কুকুরদের নির্বীজকরণ ও টিকাকরণের পরে তাদের আগের এলাকায় ফিরিয়ে দেওয়াই দীর্ঘদিনের প্রচলিত নিয়ম। তবে সেই যুক্তি মানতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানায়, পথকুকুরের আক্রমণ ও জলাতঙ্কের মতো সমস্যাকে হালকাভাবে নেওয়া সম্ভব নয়। আদালতের মতে, বহু ক্ষেত্রেই প্রশাসনের গাফিলতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
শুনানির সময় আদালত আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও পুর প্রশাসন পথকুকুর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে যথেষ্ট সক্রিয় ভূমিকা নেয়নি। কোথাও পর্যাপ্ত শেল্টার নেই, কোথাও আবার নিয়মিত টিকাকরণ বা নির্বীজকরণের কাজ সঠিকভাবে হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেই মনে করছে আদালত।
এই নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে পশুপ্রেমী সংগঠনগুলি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছে, অন্যদিকে বহু সাধারণ মানুষ আদালতের এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে পথকুকুরের আক্রমণ এবং জলাতঙ্কের বাড়তে থাকা ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান প্রশাসনের উপর আরও চাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।