ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে ভারতসহ অনান্য দেশগুলির উপর ৫০০% শুল্ক চাপাতে পারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার উপর চাপ বাড়াতে আবারও সেই তেল বাণিজ্যকেই প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ওয়াশিংটন। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই রাশিয়ার তেল আমদানিকারক দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিতে একটি নতুন প্রস্তাবিত আইনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এই তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসায় উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লিতে।
প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য রাশিয়ার আয় কমানো, যাতে যুদ্ধ চালানোর আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়। মার্কিন আইনপ্রণেতাদের একাংশের দাবি, রাশিয়ার তেল কিনে কার্যত সেই যুদ্ধ অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করছে কয়েকটি দেশ। ভারত, চিন এবং ব্রাজিলের মতো দেশগুলি গত কয়েক বছরে তুলনামূলক কম দামে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনেছে, যা তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সহায়ক হলেও পশ্চিমী দেশগুলির চোখে তা রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ভারতের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও জটিল। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারতের তেল আমদানির তালিকায় রাশিয়া অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের চাপ সামাল দিতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার তেল কেনাকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে ভারত সরকার। তবে সেই সিদ্ধান্তই এখন মার্কিন বাণিজ্য নীতির নিশানায়।
এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতের উপর ২৫% শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন প্রশাসন। এবং পরবর্তী কালে জারমানা স্বরূপ আরও ২৫% অর্থাৎ মোট ৫০% শুল্ক চাপানো হয়েছিল ভারত থেকে রফতানিজাত দ্রব্যের উপর। এর প্রভাব দুই দেহসের বাণিজ্য, কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর ব্যাপকভাবে পরেছে। ট্রাম্পের এই নীতি তুলে নেওয়ার দাবিতে একধিক মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু ভারত তার অবস্থান থগেকে একটুও সরেনি। দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে এসেছে নয়া দিল্লি। প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে, মার্কিন বাজারে ভারতীয় পণ্যের উপর নজিরবিহীন শুল্ক বসতে পারে। ৫০০ শতাংশ শুল্ক কার্যত ভারতীয় রপ্তানিকে অচল করে দেওয়ার মতো প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টেক্সটাইল, ওষুধ, গয়না, তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা-সহ একাধিক খাত এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই প্রস্তাব দু’দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে আরও টানাপড়েন তৈরি করতে পারে।
যদিও এখনই এই আইন কার্যকর হয়নি। এটি এখনও প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে এবং কংগ্রেসের অনুমোদনসহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে। তবু মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশ্য সমর্থন বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। ভারত সরকার আগেই স্পষ্ট করেছে, দেশের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার উপর নির্ভরশীল। বিদেশি চাপের কাছে সেই নীতিতে আপস করা হবে না বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
