নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগান বিপর্যয়ে মাইকে ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ ঘোষণা নিয়ে তদন্তে বড় পদক্ষেপ পুলিশের। ওই ঘোষণার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দু’জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথম জন সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু। দ্বিতীয় অভিযুক্ত কুশল মজুমদারকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকালে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেন কুশল।
তবে গ্রেফতারির পরেও তাঁর ফেসবুক পেজ থেকে একের পর এক পোস্ট হওয়ায় নতুন প্রশ্ন উঠেছে। হাতে লেখা নোট শেয়ার করে সেখানে সপ্তমীর সন্ধ্যার ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কী কারণে তিনি ওই ঘোষণা করেছিলেন, তাও জানানো হয়েছে। পুলিশের এক সূত্রের দাবি, গ্রেফতারির পর কুশলের নিজের পক্ষে পোস্ট করা সম্ভব নয়। অনুমান, তাঁর পরিচিত বা আত্মীয় কেউ অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করছেন।
সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগানে যখন দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তখনই মাইকে ঘোষণা হয়, “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে!” অভিযোগ, এই ঘোষণাই আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দেয়। কে এই ঘোষণা করেছিলেন, তা খুঁজতে নেমে পুলিশ দুই ঘোষককে চিহ্নিত করে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত একজন ধরা পড়লেও দ্বিতীয় জন পলাতক ছিলেন। শুক্রবার তিনিও ধরা পড়েন।
ফেসবুকে শেয়ার করা নোটে কুশল দাবি করেছেন, তিনি গত ২০ বছর ধরে চোরবাগানের পুজোর সঙ্গে যুক্ত। সপ্তমীর রাতের ঘটনার জন্য ক্লাবের সব সদস্যের পক্ষ থেকে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি ক্লাবে ছিলেন। তখন সেখানে ছিলেন গিরিশ পার্ক থানার বড়বাবু ও ছোটবাবু। তাঁরা চা খেতে চাওয়ায় তিনি ও ক্লাবের আরেক সদস্য চা আনতে যান। চা দেওয়ার পর ক্লাবে বসে কাজ করছিলেন। ১০-১৫ মিনিট পর একটি শব্দ শুনে থানার দুই আধিকারিক ক্লাবঘর থেকে বেরিয়ে যান। কুশল লিখেছেন, “আমাদের ক্লাবের সম্পাদকের ছেলে কবির এসে বলে, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। আমি যখন বেরোব, তখন পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, আপনারা মাইকিং করুন। আমি সামনে গিয়ে দেখি, যে মাইকিং করছিল, সে নেই।”
এরপরই বাধ্য হয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি মাইকে ঘোষণা করেন বলে দাবি। তিনি প্রথমে পুলিশকে দিয়ে মণ্ডপে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করান। তারপর ঘোষণা করেন, “আপনারা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। মূল মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ। এত দর্শক একসঙ্গে ঢুকলে ভিত আলগা হয়ে ভেঙে পড়তে পারে।” তাঁর দাবি, এর পিছনে কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।
কুশল আরও লিখেছেন, মাইকের মুখ মণ্ডপের ভিতর বা মাঠের দিকে ছিল না, ছিল সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, মুক্তারামবাবু স্ট্রিট, অমর বসু সরণি এবং পার্বতী ঘোষ লেনের দিকে। মণ্ডপের সামনে ছোট লাল মাইকে শুধু থিমের গান চলছিল, যা ভিতর থেকে চালানো হয়।
চোরবাগানের ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে বেশ কিছু ভিডিও ছড়ায়, যদিও তার সত্যতা যাচাই করা হয়নি। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রিল ঘেরা ঘোরানো উড়ালপথের উপর কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়ে গিয়েছেন। অন্য ভিডিওতে দেখা যায়, বাইরে যাওয়ার গেট থেকে ৮-১০ মিটার ভিতরে প্রবল ঠেলাঠেলিতে মাটিতে পড়ে গিয়েছেন অনেকে, আতঙ্কে চিৎকার করছেন। এক পুলিশকর্মীকে বারবার ফোন করার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই মাইকে ঘোষণা হয়, “মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে, দ্রুত বেরিয়ে যান।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই ঘোষণায় আতঙ্ক আরও বাড়ে এবং হুড়োহুড়ি বেড়ে যায়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও ওই ঘোষণার বিষয়টি সমর্থন করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।