নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নেতা মজিদ আনসারিকে তিন বছর আগের একটি মামলায় গ্রেফতার করল পুলিশ। এর প্রতিবাদে শুক্রবার আমহার্স্ট স্ট্রিট থানার সামনে অবস্থানে বসেন কুণাল ঘোষ।
কুণালের অভিযোগ, চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর পর যাঁরা প্রভাবশালীদের যোগ নিয়ে সরব হয়েছিলেন, মজিদ তাঁদেরই একজন। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে। থানায় কুণাল পৌঁছতেই বাইরে জড়ো হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁরা কুণালের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মজিদের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ, মহিলার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালের ওই মামলায় মজিদ সহ ১১ জনের নাম ছিল। সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তবে কুণালের দাবি, এটি সাজানো মামলা। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “চোরবাগানের ঘটনায় প্রভাবশালী যোগ নিয়ে তৃণমূলের যারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে, তাদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। পুরনো বা সাজানো মামলায় গ্রেফতার শুরু করেছে সরকার। জোড়াসাঁকো, আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা নেমে পড়েছে। চোরবাগানে মাথাদের ছেড়ে পুলিশ প্রতিবাদীদের কণ্ঠরোধে নেমেছে।”
বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ অবশ্য কুণালের অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁর বক্তব্য, “অন্যায় করলে পদক্ষেপ হবে। অন্যায়ভাবে ধরা হলে আদালত দেখবে। এত ছটফট করার কী আছে?”
প্রসঙ্গত, গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগানের ঘটনার পর থেকে মণ্ডপ ও পুজো কমিটির সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, মণ্ডপে ভুয়ো ঘোষণা করে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছিল, সেই মামলায় দু’জনকে ধরা হয়েছে। কুণালের দাবি, মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা, উল্টে যাঁরা মুখ খুলেছেন তাঁদেরই হেনস্থা করা হচ্ছে।