নাক দিয়ে হঠাৎ রক্ত পড়তে শুরু করলে অনেকেই বলেন, শরীর কষে গিয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময় এই ধারণা আরও বেশি শোনা যায়। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে শরীর ‘কষে যাওয়া’র সরাসরি কোনও প্রতিষ্ঠিত সম্পর্ক নেই। বরং নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালির ক্ষতি, শুষ্ক আবহাওয়া, সংক্রমণ কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তাই লোকমুখে প্রচলিত ধারণার বদলে প্রকৃত কারণ জানা জরুরি।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ শুষ্ক আবহাওয়া। নাকের ভেতরের আবরণ আর্দ্র থাকে এবং সেখানে অসংখ্য সূক্ষ্ম রক্তনালি রয়েছে। অতিরিক্ত গরম, শুষ্ক বাতাস কিংবা দীর্ঘক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকার ফলে নাকের ভেতর শুকিয়ে যেতে পারে। এতে আবরণে ফাটল ধরলে সামান্য আঘাতেও রক্তপাত হতে পারে। বারবার নাক খোঁটা, জোরে নাক ঝাড়া বা নাকে আঘাত লাগাও রক্তপাতের পরিচিত কারণ।
দ্বিতীয়ত, সর্দি-কাশি, অ্যালার্জি ও সাইনাসের সমস্যার কারণেও নাকের ভেতরের আবরণে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। বারবার হাঁচি, নাক মোছা কিংবা নাক ঝাড়ার ফলে সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে নাক খোঁটার অভ্যাস এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে নাকের ভেতরের আবরণ পাতলা হয়ে যাওয়া রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তবে সব ক্ষেত্রে কারণ এতটা সাধারণ নয়। উচ্চ রক্তচাপ, রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যা এবং কিছু ওষুধও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে অ্যাসপিরিন, কিছু রক্ত পাতলা করার ওষুধ এবং নাকের নির্দিষ্ট স্প্রে ব্যবহারের সঙ্গে রক্তপাতের সম্পর্ক থাকতে পারে। যদিও উচ্চ রক্তচাপকে নাক দিয়ে রক্ত পড়ার একমাত্র বা সরাসরি কারণ বলা যায় না, রক্তচাপ বেশি থাকলে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। বারবার রক্তপাত হলে রক্তস্বল্পতা, প্লেটলেটের সমস্যা বা অন্য কোনও অন্তর্নিহিত অসুস্থতা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
নাক দিয়ে রক্ত পড়লে প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে সোজা হয়ে বসুন, সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকুন এবং নাকের নরম অংশটি একটানা ১০–১৫ মিনিট চেপে ধরুন। মাথা পিছনে হেলিয়ে দেবেন না, কারণ তাতে রক্ত গলায় চলে যেতে পারে। ২০ মিনিট চাপ দেওয়ার পরও রক্তপাত বন্ধ না হলে, প্রচুর রক্ত বের হলে, মাথা ঘুরলে কিংবা আঘাতের পর রক্তপাত শুরু হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
অতএব, নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে শুধু ‘শরীর কষে যাওয়া’ বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। একবার সামান্য রক্তপাত সব সময় গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিত না দিলেও, বারবার এমন হলে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।