নারী অপরাধে অভিযুক্ত জনপ্রতিধিরা
সম্প্রতি ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস’ (এডিআর) এবং ‘ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ’-এর একটি প্রতিবেদনে নারী-অপরাধে জড়িত দেশের জনপ্রতিনিধিদের একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে। এই ধরণের অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গে। এরপরই রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশা। পশ্চিমবঙ্গে ৬৩ জন বিধায়ক, চারজন লোকসভা সাংসদ এবং দুজন রাজ্যসভা সাংসদ নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশায় নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত সাংসদ ও বিধায়কের সংখ্যা যথাক্রমে ২২ এবং ১৭। সারা ভারত জুড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দুজন লোকসভা সাংসদ এবং ১২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একজন সাংসদ ও দুজন বিধায়ক পশ্চিমবঙ্গের। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিজেপির দুজন বর্তমান বিধায়ক ও দুজন বর্তমান সাংসদ, কংগ্রেসের চারজন বিধায়ক এবং টিডিপি, ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস, বিজু জনতা দল, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, ভারত আদিবাসী পার্টি ও এআইএসএফ-এর একজন করে বিধায়কের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা বিচারাধীন থাকার কথা জানা গেছে।
দেশের ৭৭২ জন বর্তমান সাংসদ এবং ৪,১০৯ জন বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এই রিপোর্ট তৈরি হয়েছে। এই রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে অভিযুক্তদের মধ্যে বিজেপি জনপ্রতিনিধির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিজেপির ৯৫ জন বিধায়ক, ১০ জন লোকসভা সাংসদ এবং একজন রাজ্যসভা সাংসদ রয়েছেন এই তালিকায়। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে কংগ্রেসের ১৯ জন বিধায়ক ও একজন লোকসভা সাংসদের বিরুদ্ধে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একজন রাজ্যসভা সাংসদও রয়েছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপ্রিম কোর্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিল যে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অপরাধমূলক অতীত রয়েছে এমন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার কারণ যেন তারা প্রকাশ করে। এই প্রতিবেদনে এডিআর জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনীত প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড প্রকাশের বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে চলেছে।