‘ব্লু ওয়েভ’-এ কী ধাক্কা খাচ্ছেন ট্রাম্প ?
৩রা নভেম্বর আমেরিকায় মধ্যবর্তী নির্বাচন। যা একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে এই নির্বাচন হয়। এতে মার্কিনিরা হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ ৪৩৫ জন সদস্যকেই নির্বাচিত করবেন। যা ভারতের লোকসভার মতোই মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ। এছাড়া উচ্চকক্ষ বা সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতেও নির্বাচন হবে। এটা কিন্তু ভারতের রাজ্যসভার মতো নয়, বরং মার্কিন সিনেটররা সরাসরি ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হন।ভারতে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনকে যেমন প্রায়শই নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর গণভোট হিসেবে দেখা হয়, তেমনি আমেরিকার এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকেও অনেক সময় প্রেসিডেন্টের কার্যকালের ওপর এক ধরনের রায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভারতের লোকসভা নির্বাচনের মতোই, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরাও বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা থেকে ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা সর্বাধিক ভোট পাওয়ার ভিত্তিতে বিজয়ী পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন। এই ভোট নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কপালে নিশ্চিত ভাবে ভাঁজ দেখা যাচ্ছে। যে ভাবে মার্কিনিদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন তা প্রচারের জন্য হাতে যে আর মাত্র দু সপ্তাহ রয়েছে তাতে কতটা ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে পারবেন তা নিয়ে বড় প্রশ্ন। জাতীয় পর্যায়ের সব জরিপেই ডেমোক্র্যাটরা বেশ ভালো ব্যবধানে এগিয়ে আছেন এবং গণমাধ্যমে একটি ‘ব্লু ওয়েভ’ বা ডেমোক্র্যাটিক জোয়ার দেখা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে ইংগিত মিলছে তাতে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে। তবে সিনেটের বিষয়টি কিছুটা অনিশ্চিত। এক মাস আগেও মনে করা হচ্ছিল যে সেখানে রিপাবলিকানরা নিরাপদ, কিন্তু এখন তা আর নিশ্চিত নয়। এটি শেষ পর্যন্ত একটি বড় জোয়ারে পরিণত হবে কি না, তা নির্ভর করবে সেই অঙ্গরাজ্যগুলোর ফলাফলের ওপর, যেখানে ট্রাম্প আগে অনায়াসেই জয়লাভ করেছিলেন। ফলে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ভারত মার্কিন সম্পর্কে যে ফাটল দেখা দিয়েছে তার গতি প্রকৃতি কী হবে সেদিকেই তাকিয়ে নয়াদিল্লি। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে, ট্রাম্পের শেষ দুই বছরে তাঁর শুল্ক ও ভিসা নীতিগুলো অনেক বেশি কঠোর পর্যালোচনার মুখে পড়বে। তবে ক্যাপিটল হিলের উভয় দলই যেহেতু সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি এবং অভিবাসন সীমাবদ্ধতার পক্ষে, তাই নয়াদিল্লির কেবল সুর পরিবর্তনের প্রত্যাশাই করা উচিত। প্রকৃত নীতিগত পরিবর্তনের জন্য এখনো অনেক সময় লাগবে।