ওঙ্কার ডেস্ক : কলকাতায় আই-প্যাক সংক্রান্ত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযানের জেরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত এবার সরাসরি গিয়ে পৌঁছল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। সুপ্রিম কোর্টে আগাম ‘ক্যাভিয়াট’ দাখিল করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিল, এই মামলায় কোনও একতরফা নির্দেশ জারি করার আগে যেন তাদের বক্তব্য শোনা হয়।
সম্প্রতি আই-প্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশি ঘিরে প্রবল উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ নিয়ে ইডির সঙ্গে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়। ইডির দাবি, আইনানুগভাবে চলা অভিযানে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ডিজিটাল ডেটা সরানোর চেষ্টা হয়েছে। অন্যদিকে রাজ্যের বক্তব্য, ইডি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযান চালিয়েছে এবং প্রশাসনিক কর্তব্য পালন করতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই বিষয়টি প্রথমে গড়ায় কলকাতা হাই কোর্টে। সেখানে ইডি রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তোলে। একই সঙ্গে ইঙ্গিত মেলে, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই সম্ভাবনাকেই সামনে রেখে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ক্যাভিয়াট দাখিল করে রাজ্য সরকার।
আইনগতভাবে ক্যাভিয়াট দাখিলের অর্থ হল, সংশ্লিষ্ট মামলায় কোনও পক্ষ যদি শীর্ষ আদালতে আবেদন জানায়, তবে রাজ্য সরকারের বক্তব্য না শুনে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর ফলে রাজ্য সরাসরি জানিয়ে দিল যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার যেকোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধেই তারা আইনি লড়াইয়ে প্রস্তুত।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, কেন্দ্রীয় সংস্থার ক্ষমতা ও রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক অধিকার নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু একটি অভিযানের আইনি বৈধতা নিয়েই নয়, বরং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সীমারেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বড় সাংবিধানিক ও আইনি বিতর্কের দিকে এগোতে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
