ওঙ্কার ডেস্ক : ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে ব্যবহার করে ফের অস্ত্র আমদানি শুরু করেছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, চিন ইতিমধ্যেই তাদের অত্যাধুনিক এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তেহরানে পৌঁছে দিয়েছে। এর ফলে নতুন করে অশান্তির ছায়া ঘনাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে।
পশ্চিম এশিয়ার এক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, তেলের বিনিময়ে চিনের কাছ থেকে এই সামরিক সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে ইরান। এর আগেও এলওয়াই-৮০ এবং এলওয়াই-৮০ই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বেজিং থেকে আমদানি করেছিল তেহরান। বর্তমানে ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চিন। মার্কিন ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মে মাসের রিপোর্ট বলছে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও কনডেন্সট চিনে রফতানি হয়।
প্রসঙ্গত, এই এইচকিউ-৯ ব্যবস্থা পাকিস্তানও ব্যবহার করছে। সম্প্রতি পাক সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই সিস্টেমের উন্নত সংস্করণ এইচকিউ-৯পি বা এইচকিউ-৯ বিই। প্রায় ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা রাখে এই সিস্টেম। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অত্যাধুনিক এইএসএ রাডার ও ১৪ ম্যাক গতিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র, যা শব্দের চেয়ে ১৪ গুণ দ্রুত ছুটে যেতে পারে।
১২ জুন ইরানের উপর ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ অভিযানের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে ২১ জুন ফোরডো, নাতান্জ ও ইসফাহানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে মার্কিন বিমানবাহিনী ‘মিডনাইট হ্যামার’ অপারেশনে বাঙ্কার ব্লাস্টার জিবিইউ-৫৭ বোমা এবং টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। টানা পাল্টা হামলার জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ২৪ জুন সংঘর্ষবিরতি হয়। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে ইরানে চিনা অস্ত্রের প্রবেশ পশ্চিম এশিয়ায় নতুন অশান্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তেহরানের নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ফলে পশ্চিম এশিয়ার ভবিষ্যৎ অভিযান কতটা জটিল হয়ে উঠবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
