ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের নবম দিনে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের পর। শনিবার রাতে ফোরডো, নাতানজ এবং ইসফাহানের তিন পরমাণুকেন্দ্রে আমেরিকার এয়ারস্ট্রাইকের পর হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জানালেন, ইরানকে “শান্তি ফেরাতেই হবে, না হলে পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ”। ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইরানকে “বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসপুষ্ট দেশ” বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, “ইরান পরমাণু বোমা বানানোর পথে অনেকদূর এগিয়েছে। আমরা এই পরিকল্পনা ধ্বংস করে দিয়েছি।” তাঁর মতে, বিশ্বজুড়ে যে আতঙ্কের পরিবেশ ইরান তৈরি করেছে, সেটি বন্ধ করতেই এই সামরিক পদক্ষেপ জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবার সময় ট্রাম্প আরও বলেন, “আমাদের সেনা তিনটি সবচেয়ে সুরক্ষিত এবং গুরুত্বপূর্ণ পরমাণুকেন্দ্র ধ্বংস করেছে। এগুলি ছিল সবচেয়ে কঠিন লক্ষ্য। কিন্তু এখনও বহু টার্গেট বাকি রয়েছে। প্রয়োজনে সেগুলিতেও নির্ভুল ও দ্রুত হামলা চালানো হবে।” ট্রাম্প বলেন, এই অভিযানে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী যুক্ত ছিল এবং তাদের সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে কাজ করে আমেরিকা সাফল্য পেয়েছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা যেভাবে একদল হিসেবে অভিযান চালিয়েছি, তা অভূতপূর্ব।” হামলার পরে ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমেরিকার সেনাবাহিনী ইরানের ফোরডো, নাতান্জ ও ইসফাহানে সফল ভাবে আঘাত হেনেছে। অভিযানের পরে সব মার্কিন বিমান নিরাপদে আকাশসীমা ত্যাগ করেছে”। তবে ট্রাম্প নিজের দ্বিচারিতা প্রমাণ দিয়ে আরও লেখেন, “এখন শান্তির সময়”। অনুমানের জেরে হামলা তারপর প্রথমে শান্তি ও একই বক্তৃতায় পরবর্তী হালমার হুমকি দিয়ে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
উল্লেখ্য, আমেরিকার অভিযোগ তুলেছিল ইরান গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে, এবং অদূর ভবিষ্যতেই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের তালিকায় নাম লেখাতে চায়। ইরান অবশ্য দাবি করেছিল তাদের এই পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং দেশের কল্যাণে। কিন্তু এই নিয়ে আলোচনায় কোনও সমঝোতা না হওয়াতেই, গত শুক্রবার ইজরায়েল ইরানের উপর হামলা চালায়, যাতে মৃত্যু হয় চার শীর্ষ সেনাকর্তা ও নয়জন পরমাণু বিজ্ঞানীর। তার পাল্টা জবাবেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু করে ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায়। টানা চলতে থাকা এই সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই দেশের সামরিক ব্যাবস্থা, হাসপাতাল, বিমানবন্দর। প্রাণ হারিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। এই উত্তেজনার ঠিক মাঝেই যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হস্তক্ষেপ সংঘাতকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করেছে যার পরিনাম আরও ভয়াবহ হবে বলে আশঙ্কা। ট্রাম্পের বক্তব্যে যেমন শান্তির বার্তা রয়েছে, তেমনি রয়েছে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও।
