ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে আলোড়ন ছড়িয়েছে দেশ-বিদেশে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পশ্চিম ইরানের বোরুজের্দ শহরের রাস্তায় প্রতিবাদ মিছিলে হাঁটছেন এক বৃদ্ধা। তাঁর মুখে ও ঠোঁটের চারপাশে রক্তের দাগ, চোখেমুখে তীব্র ক্ষোভ আর দৃঢ়তা। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চস্বরে বলছেন, ভয় পান না, কারণ গত ৪৭ বছর ধরে তিনি কার্যত মৃত।
বৃদ্ধার বক্তব্যে ‘৪৭ বছর’ শব্দটি ইঙ্গিত করছে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের দিকে, যার পর থেকেই বর্তমান শাসনব্যবস্থা ইরানে প্রতিষ্ঠিত। বহু ইরানির মতে, সেই সময় থেকেই ব্যক্তিস্বাধীনতা, সামাজিক অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। ওই বৃদ্ধার কণ্ঠে সেই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ক্ষোভ এক মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়ে ওঠে, যা আন্দোলনের প্রতীকী ছবি হয়ে উঠেছে।
এই ভিডিও সামনে আসার সময়েই ইরানের বিভিন্ন শহরে তীব্রতর হয়েছে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, রিয়ালের অবমূল্যায়ন এবং বেকারত্ব সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। প্রথমে বাজার ও ব্যবসায়ীদের অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও দ্রুতই সেই আন্দোলনে যোগ দেন ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী ও সাধারণ নাগরিকরা। রাস্তায় রাস্তায় শোনা যাচ্ছে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে স্লোগান, অনেক জায়গায় সরাসরি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরোধিতাও সামনে আসছে।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কড়া পদক্ষেপ করেছে। বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সীমিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবরও সামনে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এই আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে, যদিও সরকারি ভাবে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রক্তমাখা মুখে প্রতিবাদে নামা ওই বৃদ্ধার ভিডিওটি এখন ইরানের চলমান অস্থিরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য বহু ইরানির মনের কথা তুলে ধরছে। দীর্ঘদিনের দমন ও হতাশার পরে ভয় হারিয়ে ফেলা এক সমাজের ছবি। এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, এই আন্দোলন কতদূর যাবে এবং সরকার কীভাবে এই গভীর অসন্তোষের মোকাবিলা করবে।
