ওঙ্কার ডেস্ক: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে জর্ডনে মোতায়েন থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি সামরিক বিমানে হামলা করেছে ইরান। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র রাতে হামলা চালিয়ে অন্তত আট জনকে হত্যা করেছে। তার পরেই প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর জর্ডনের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। যদিও তাতে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই ইরানের তরফে থেকে এই দাবি সামনে এল।
এক বিবৃতিতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস বা আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেশ কয়েকটি জ্বালানি-সরবরাহকারী বিমান ও যুদ্ধবিমান’ ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া আরও অনেক বিমানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান। জর্ডনের মানুষের প্রতি ইরানের আর্জি, তারা যেন তাদের দেশে থাকা আগ্রাসী ও ইসলাম-বিদ্বেষী মার্কিন বিষয়গুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। রিপোর্ট অনুসারে, ইরানশাহরে ইরানি সেনাকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে সিরিয়ার আল-তানফ-এ অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালায় আইআরজিসি। উত্তর ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল ও সুলাইমানিয়াতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সম্ভবত ইরানি কুর্দি ভিন্নমতাবলম্বী গোষ্ঠী ‘কোমালা’। এই প্রাণঘাতী হামলায় অন্তত নয় জন নিহত ও আরও একাধিক আহত হয়েছেন। তবে ইরান তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
সিরিয়া, জর্ডন ও ইরাকের সীমান্ত এলাকা আল-তানফ ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা গত ফেব্রুয়ারি মাসে জানিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা গত মার্চে বলেছিলেন, কোনও হামলার শিকার না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দেশ যে কোনও সংঘাত থেকে দূরে থাকবে। লন্ডনের এক অনুষ্ঠানে শারা বলেছিলেন, ‘কোনও পক্ষের দ্বারা লক্ষ্যবস্তু না হওয়া পর্যন্ত সিরিয়া যে কোনও সংঘাতের বাইরেই থাকবে।’ রেভল্যুশনারি গার্ডস আরও জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকা পর্যন্ত এই জলপথ দিয়ে কোনও তেল বা গ্যাস রফতানি করা হবে না।