ওঙ্কার ডেস্ক: যুদ্ধ যেন থামতেই চাইছে না গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। ফের সে দেশের আকাশে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। গত ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট সংঘর্ষবিরতি এখন খাদের কিনারায়। শনিবার ইরানের ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস’ আমেরিকাকে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তারা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে মিসাইল তাক করে রেখেছে। এই গোটা ঘটনার সূত্রপাত, ইরান দাবি করে আচমকাই আমেরিকার বাহিনী তাদের ওপর অতর্কিতে তাদের ওপর হামলা করে। এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসে ইরান। তবে মার্কিন সেনার দাবি, এটি ছিল নিছকই ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ, কারণ ইরানই প্রথম প্ররোচনা দিয়েছিল। অন্যদিকে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে পালটা দাবি করেছে যে, আমেরিকা সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করে বেসামরিক এলাকায় এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নতুন কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মার্কিন সেনা ‘অপারেশন প্রজেক্ট ফ্রিডম’ শুরু করেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রথম দফার শান্তি বৈঠক আগেই ভেস্তে গিয়েছে। তার পরে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে বসার প্রস্তুতি চললেও তা এড়িয়ে গিয়েছে দুই পক্ষই। তবে কূটনৈতিক আলোচনা একেবারে বন্ধ হয়নি। একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ইরানের কাছে একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাতে পারমাণবিক প্রকল্পে নিষেধাজ্ঞা-সহ একাধিক শর্ত রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তার জবাব দেয়নি ইরান। তার আগেই আমেরিকান সেনাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বসল তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ইসলামিক গার্ড অফ কর্পস সরাসরি বলেছে, ‘আমাদের ওপর সরাসরি হামলা হলে তারাও চুপ করে বসে থাকবে না, তারাও সমান ভাবে হামলা করবে।‘’ উল্লেখ্য, গত ৭ এপ্রিল ট্রাম্প সংঘর্ষ বিরতি ঘোষণা করেছিল, কিন্তু তাঁকে তোয়াক্কা না করেই হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও আমেরিকার দাবি এটি হামলা নয়, এটি সম্পূর্ণ রুপে একটি আত্মরক্ষামুলক অভিযান।