ওঙ্কার ডেক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, এই হামলায় ইজরায়েল অত্যাধুনিক ‘ব্লু স্প্যারো’ নামের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত উন্নত এই অস্ত্র ব্যবহারের দাবি সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
জানা গিয়েছে, তেহরানের একটি নির্দিষ্ট স্থানে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সেই হামলাতেই নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা। হামলাটি এতটাই নিখুঁতভাবে পরিচালিত হয়েছিল যে লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্রটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার ধরন ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে অনুমান করা হচ্ছে যে এতে ‘ব্লু স্প্যারো’ মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছিল।
ব্লু স্প্যারো মূলত ইজরায়েলের তৈরি একটি এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। অর্থাৎ এটি যুদ্ধবিমান থেকে আকাশে নিক্ষেপ করা হয় এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে উপরের দিকে উঠে যায়। নির্দিষ্ট উচ্চতায় পৌঁছে মিসাইলের একটি অংশ আলাদা হয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে তীব্র গতিতে নেমে আসে। এই ধরনের আঘাত এতটাই দ্রুত ঘটে যে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে সেটি আটকানো কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্লু স্প্যারো প্রথমে তৈরি হয়েছিল পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে। মূলত ইজরায়েলের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা করার জন্যই এই মডেল তৈরি করা হয়েছিল। পরে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এটিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করা হয়। বর্তমানে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শত্রুপক্ষের নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল এর উচ্চগতি এবং উচ্চতা থেকে আঘাত করার ক্ষমতা। অনেক সময় এটি বায়ুমণ্ডলের প্রান্তসীমা ছুঁয়ে আবার লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধেয়ে আসে বলে সামরিক বিশ্লেষকেরা এটিকে ‘মিসাইল ফ্রম স্পেস’ বলেও উল্লেখ করেন। ফলে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে সেটিকে শনাক্ত বা প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
এই হামলার পর থেকেই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আগে থেকেই চলতে থাকা উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এর জন্য ইজরায়েলকে দায়ী করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
