ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আবহে ইয়েমেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ইজরাইল। সোমবার ভোররাতে ইয়েমেনের তিনটি বন্দর ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি সেনাবাহিনী। হুতি বিদ্রোহীদের উপর সামরিক অভিযান চালাল ইজরায়েল। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ এই হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন। জানিয়েছেন, এই অভিযান ছিল ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ’-এর অংশ। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, হুতিরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ভারী মূল্য দিতে হবে।
ইজরায়েলি সেনা সূত্রের দাবি, হুদায়দাহ, রাস ইসা ও সাইফ নামে তিনটি বন্দর এবং ইব ও তাইজ শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী রাস কানাতিব বিদ্যুৎকেন্দ্র এই হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার পরই হুদায়দাহসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক্সে দেওয়া পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‘ইয়েমেনের পরিণতি হবে তেহরানের মতোই। কেউ ইজরায়েলের ক্ষতি করতে চাইলে, সেই হাত কেটে ফেলা হবে।’’
রয়টার্সের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ‘গ্যালাক্সি লিডার’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ। ২০২৩ সাল থেকে হুতি বিদ্রোহীরা জাহাজটি দখল করে রেখেছিল। ইজরায়েলের দাবি, জাহাজটি ব্যবহার করা হচ্ছিল লোহিত সাগরে নজরদারি ও হামলার কাজে। ইজরায়েলের হামলার জবাবে হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে এবং পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যদিও ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছে, হামলার আগে বন্দরগুলো খালি করে দিতে বলা হয়েছিল। হুতি-নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম আল মাসিরা জানিয়েছে, হামলার আগে স্থানীয়দের সরে যেতে সতর্কবার্তা দিয়েছিল ইজরায়েলি বাহিনী। কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এখনো পর্যন্ত হতাহতের সঠিক তথ্য জানাতে পারেনি। তবে হামলার জেরে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে খবর। হুদায়দাহ বন্দরটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ইয়েমেনে খাদ্য ও মানবিক সাহায্য প্রবেশের প্রধান কেন্দ্র। গত এক বছরে একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছে এই বন্দরটি।
গাজা সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্যালেস্টাইন সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ ও মিত্র বাণিজ্যিক জাহাজগুলিকে নিশানা করছে। তাদের দাবি, প্যালেস্টাইনের প্রতি সংহতি জানাতেই এই হামলা। ইজরায়েলি সেনা সূত্রের মতে, ইয়েমেন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, সেগুলি প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্র থামাতে সফল হয়েছে কি না, তা পর্যালোচনার মধ্যে আছে।
