ওঙ্কার ডেস্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের সভামঞ্চে ফের পাকিস্তানকে তুলোধোনা করল ইজরায়েল। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসবাদকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। যার ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি ক্রমশ প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্প্রতি রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনে। কাতারে ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তান অভিযোগ তোলে, “আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে সার্বভৌম দেশের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে ইজরায়েল।” ইসলামাবাদের বক্তব্য ঘিরেই বিতর্কের সূচনা। পাল্টা জবাব দিতে উঠে দাঁড়ান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ইউএন ওয়াচের ডিরেক্টর হিলেল নিউয়ার। তিনি সরাসরি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রীয় সহায়তাকারী দেশ বলে আখ্যা দেন। তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা কয়েক সেকেন্ডের বেশি স্থায়ী না হলেও, তার অভিঘাত ছিল প্রবল।
শুধু ইজরায়েলই নয়, ভারতের তরফেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা শোনা গিয়েছে। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতীশ ত্যাগী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, “পাকিস্তান এক ব্যর্থ রাষ্ট্র, যে সন্ত্রাসকে নীতি হিসেবে আঁকড়ে ধরেছে। মানবাধিকার নিয়ে অন্যদের প্রশ্ন তোলার কোনও নৈতিক অধিকার তাদের নেই।” তাঁর এই মন্তব্যে সভাকক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোড়ন ছড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রকাশ্যে এমন তিরস্কার পাকিস্তানের কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। ইসলামাবাদ যতই নিজেদের ‘শান্তিপ্রিয়’ ও ‘আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে যাক না কেনো তাদের বিরুদ্ধে বরাবর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্টপোষক দেশ হিসাবেই ভাবমুর্তি বিরাজমান। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে কাশ্মীর, বারবার জঙ্গি সংগঠনগুলিকে পাকিস্তানের মদত দেওয়ার অভিযোগই সামনে এসেছে। ইজরায়েল ও ভারতের তীব্র আক্রমণের ফলে সেই অভিযোগ আরও শক্তিশালী হল বলে বিশ্লেষকদের মত।
অন্যদিকে, পাকিস্তান নিজেদের অবস্থানে অনড়। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা কেবল কাতারের সার্বভৌমত্ব ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলেছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তান বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গকারীদের দায়বদ্ধ করতেই তারা আওয়াজ তুলেছে। তবে ইজরায়েল ও ভারতের পাল্টা আক্রমণের ফলে সেই দাবির জোর অনেকটাই ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসলামাবাদের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায় এখন আরও কঠিন হবে। বিশেষত, যখন বড় মঞ্চে সরাসরি সন্ত্রাস আসক্ত দেশ হিসেবে তাদের আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
