ওঙ্কার ডেস্ক: আন্তর্জাতিক নিয়ম কার্যত অগ্রাহ্য করে গাজায় লাগাতার বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়া ইজরায়েলের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি পদক্ষেপ নিল তুরস্ক। শনিবার প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোগানের সরকার ঘোষণা করেছে, ইজরায়েলের জন্য তুরস্কের আকাশ ও সমুদ্রসীমা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হল।
তুরস্কের পার্লামেন্টে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়ে দিয়েছেন, ইজরায়েলের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইজরায়েলের জাহাজ তুরস্কের কোনও বন্দর ব্যবহার করতে পারবে না, তুরস্কের আকাশসীমা ইজরায়েলের বিমানের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিদেশমন্ত্রীর দাবি, আন্তর্জাতিক মহলের নীরবতা উপেক্ষা করে গত দু’বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালিয়ে আসছে ইজরায়েল। সেই অপরাধের প্রতিবাদেই এ বার কঠোর পদক্ষেপে নামল আঙ্কারা। এর মধ্যেই তুরস্ক ঘোষণা করেছে এক যুগেরও বেশি সময় পরে সিরিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ফের চালু করা হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১১ সালে বাশার আল-আসাদের শাসনের সময়ে বিদ্রোহীদের সরাসরি সমর্থন জানিয়েই দামাস্কাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল তুরস্ক। এরপর সিরিয়ার অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান ও আমেরিকা-তুরস্কের কূটনৈতিক সমীকরণ বদলের পরেও দুই দেশের সীমান্ত দীর্ঘদিন কার্যত বন্ধই ছিল।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। গত ডিসেম্বরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম ও তাদের সহযোগীদের হামলায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে সিরিয়ায় ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। তার পরেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা। ঠিক সেই সময়েই তুরস্ক-সিরিয়া সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার উদ্যোগ নেয় এর্ডোগান প্রশাসন। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ইজরায়েল ইতিমধ্যেই সিরিয়ার গোলান উপত্যকা সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে বসেছে। এই পরিস্থিতিতেই আঙ্কারার কূটনৈতিক কৌশল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
