ওঙ্কার ডেস্ক: সাম্প্রতিক এক আলোচনায় আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান সরাসরি আঙুল তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির দিকে। তাঁর মতে, আমেরিকা এক সময় যেভাবে বিশ্বের কাছে নেতৃত্ব ও আস্থার প্রতীক ছিল, সেই ভাবমূর্তি এখন ক্রমশ ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক দেশ আমেরিকাকে আর সমাধান নয়, বরং সমস্যার অংশ হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
সুভিলিয়ান বলেছেন, ট্রাম্প আমলে একের পর এক টারিফ আরোপ এবং শুল্কনীতির অস্থিরতা মিত্র দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশেষ করে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোকে কেন্দ্র করে সুলিভান স্পষ্ট জানান, এই সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককেই আঘাত করেনি, বরং ভারতকে চিনের দিকে আরও বেশি ঠেলে দিয়েছে। তাঁর মতে আমেরিকার এখন উচিত ইন্দো-পেসিফিক জল চুক্তির দিকে নজর দেওয়া। ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বেনজিং নিজের আধিপত্য বিস্তারের দিকে এগোচ্ছে। এই এলাকার চিনা আধিপত্য থাকলে ভবিষ্যতে তা আমেরিকারই বিপরিতে যাবে তা নিশ্চিত। ইন্দো-পেসিফিক অঞ্চলে চিনের অগ্রাসন রুখতে যুক্তরাষ্ট্রের ভারতকে হাতে রাখা খুব প্রয়োজন। ট্রাম্প সেকাজ না করে নিজের ব্যাক্তিগত কারনের জন্য পাকিস্তানকে হাতে রেখে ভারতের সঙ্গে ক্রামাগত দূরত্ব বাড়িয়ে চলছে। এর ফলস্বরুপ ভারত চিন ঘেষা হয়ে পরছে। যা আমেরিকার মাথাব্যাথার কারন হবে সদূর ভবিষ্যাতে। কিন্তু সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই ট্রাম্পের।
ট্রাম্পের বিদেশনীতিকে কড়া ভাষায় কটাক্ষ করেন সুলিভান। তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত কঠোর শব্দ ব্যবহার করে বলেন, “এখন আমেরিকার পন্য শৌচালয়ের সমান”। অর্থাৎ আজ আন্তর্জাতিক স্তরে আমেরিকার ভাবমূর্তি একেবারেই নিচে নেমে গেছে। বিদেশী ক্রেতারা এখন আমেরিকান পনের তুলনায় চিনা পন্যের উপর বেশি ভরসা করছেন, যা বিগত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।
জ্যাক আরও সতর্ক করেন, যদি ভারতকে এভাবে কোণঠাসা করা যায়, তবে আগামী দিনে জার্মানি, জাপান বা কানাডার মতো ঐতিহ্যগত অংশীদাররাও একই পরিণতির আশঙ্কায় ভুগতে পারে। তাঁর যুক্তি, এভাবে মিত্র দেশগুলিকে অবিশ্বাসের মধ্যে ফেলে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়বে, আর তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে জি-২০, কোয়াড, এমনকি ন্যাটোর মতো জোটগুলিতেও।
সুলিভানের বিশ্লেষণে উঠে আসে এক গভীর কূটনৈতিক সংকটের ছবি। আমেরিকা বরাবরই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক সম্পর্কের মাধ্যমে নিজের প্রভাব বিস্তার করেছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের অতি সুরক্ষাবাদী নীতি এবং অযৌক্তিক শুল্ক আরোপ সেই ভিত্তিকে নড়বড়ে করে তুলছে। ভারতের মতো দেশ যখন বিকল্প হিসেবে চিনের দিকে ঝুঁকছে, তখন তা কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকেও পাল্টে দিচ্ছে।
জ্যাকের বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয় যে, শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বিষয়টি মূলত এক আস্থার, বিশ্বাসের সংকট। বর্তমানে মিত্র দেশগুলির চোখে যুক্তরাষ্ট্র আজ এমন এক শক্তি, যাকে নির্ভরযোগ্য বলা যায় না। এই অবস্থার জেরে আমেরিকার নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে, এবং বিশ্বে তার কৌশলগত প্রভাবশালী অবস্থানও টলমল করছে। সুলিভানের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের টারিফ নীতি যুক্তরাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে একঘরে করে তুলছে এবং সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হবে না আগামী দিনে।
