ওঙ্কার ডেস্ক: উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে জগদীপ ধনকর ইস্তফা দেওয়ার পর থেকেই কে ঐ পদ সামঅলাবে সে নিয়ে চর্চা তুঙ্গে রাজনৈতিক মহলে। মেয়াদ শেষ হওয়ার দু’বছর আগেই শারিরীক অসুস্থার কারনে ২২ জুলাই হঠাৎই ইস্তফা দিয়েছেন উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকর। আর তাঁর এই ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পর পরবর্তীতে কে ওই আসনে বসবে সে নিয়ে জল্পনা তৈরি হিয়েছে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে। ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন সেই কাজও জোর কদমে শুরু করে দিয়েছে বলে সূত্রে খবর।
ধনকড়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২২ জুলাই গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সংবিধানের ৬৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উপরাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই নির্বাচন কমিশন প্রস্তুতি শুরু করেছে। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আইন, ১৯৫২ এবং ১৯৭৪ সালের সংশোধিত বিধি মেনে হবে ভোট। যদিও এখনও দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি, তবে নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নাম চূড়ান্ত, লোকসভা ও রাজ্যসভার সদস্যদের তালিকা প্রস্তুত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিধায়করা ভোট দিতে পারবেন না, ভোটাধিকার কেবল সাংসদের। বর্তমানে উভয় কক্ষে মিলিয়ে ভোটার ৭৮০ জন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রার্থীকে অন্তত ৩৯১ সাংসদের সমর্থন পেতে হবে।সংবিধান বলছে, ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন শেষ করতে হবে। ফলে এবার লড়াই শুধু নতুন উপরাষ্ট্রপতি পদে নয়, দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্কেও বদল আনার।
ধনকরের পর কে বসবেন উপরাষ্ট্রপতির আসনে সে নিয়ে জল্পনার কেন্দ্রে রয়েছেন একাধিক রাজনৈতিক মুখ। সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠে আসছে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নাম। রাজ্যের ভোট আগে, সরকারবিরোধী হাওয়া তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে এনডিএ-কে সংহত রাখতে নীতীশকে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে উপরাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলেই রাজনৈতিক শিবিরে জল্পনা। তাঁর জায়গায় বিজেপি কোনও দলিত বা পিছড়ে শ্রেণির নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী করতে পারে, আর নীতীশের ছেলে নিশান্তকে দেওয়া যেতে পারে উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ এমন সমীকরণের কথাও শোনা যাচ্ছে।
পরবর্তী সম্ভাব্য নাম রাজ্যসভার বর্তমান ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং। জেডিইউ সাংসদ হরিবংশ এখন ধনকড়ের অনুপস্থিতিতে উচ্চকক্ষের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে দলীয় সমীকরণও বজায় থাকবে, আবার অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতাও থাকবে।রাজনৈতিক মহলে আর একটি জল্পনা তৈরি হয়েছে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুরকে ঘিরে।অপারেশন সিঁন্দুর কে ঘীরে মোদীর প্রশংসা করে দলীয় অন্দরে কোণঠাসা তারুরকে উপরাষ্ট্রপতি করে বিরোধী শিবিরে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে বিজেপি এমন ধারণাও ভাসছে। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বা বিদায়ী বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা বা নীতিন গড়করির নামও বাতাসে ছড়াচ্ছেন।
