নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সন্তান! একরাশ মায়া, মমতা আর ভালোবাসায় মোড়া শব্দটি। সন্তান যেমনই হোক, বাবা মায়ের কাছে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ আর কিছু নয়। সন্তানের জন্য বাবা মা যতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, ততটা মনে হয় পৃথিবীতে আর কেউ পারেন না। সন্তানের জন্য নিজের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দিতেও দ্বিধা বোধ করেন না তাঁরা। তেমনই ঘটনার সাক্ষী জলপাইগুড়ি শহরের পান্ডা পাড়া।
আজ থেকে প্রায় দু বছর আগে দুঃস্থ ভ্যান চালকের বছর ২২-র মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে রাখি রায় আচমকাই বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। তার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। হঠাৎ আলিপুরদুয়ার থানা থেকে তাদের এক দিন জানানো হয়, আপনাদের মেয়েকে কেউ বা কারা থানায় পৌঁছে দিয়ে গিয়েছে, এবং আপনার মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী তাকে জলপাইগুড়ি যাবার বাসে উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপর সেই মেয়ে আর বাড়িতে ফেরেনি।
বিষয়টি নজরে আসে এলআরপি নামক একটি আইনি সহায়তা সংগঠনের আইনজীবির। এরপরেই রাখির মা, বাবার অনুমতিতে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে মামলা দায়ের করা হয়। এই প্রসঙ্গে আইনজীবী অতীন্দ্র চৌধুরী জানান, ২০২৪ সাল থেকে এই মামলাটি চলছে, মহামান্য হাই কোর্ট যে আদেশ দিয়েছে তার মূল লক্ষ্য মহিলা থানা থেকে নিখোঁজ হওয়া ওই মেয়েটিকে খুঁজে পাওয়া। সেই জন্য একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিমকে আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্ট কে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।
অন্য দিকে, নিখোঁজ মেয়ের শোকে মুহ্যমান মা, বাবা। তাঁদের মুখই বলে দিচ্ছে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা ঠিক কতখানি! নিখোঁজ রাখির বাবা অনিল রায় বলেন, কি যে যন্ত্রণা সেটি বলে বোঝানো যাবে না, খুব কষ্ট হয়, কোর্ট নতুন করে আদেশ দিয়েছেন, আশা করছি ফিরে পাবো মেয়েকে। দুবছর ধরে নিখোঁজ মেয়েকে আবার কবে ফিরে পাবেন তাঁরা? সেই প্রশ্নের উত্তর হাতড়াচ্ছেন অসহায় বাবা মা।
