অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম : জঙ্গলমহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ পাহাড়সুন্দরীকে দেবতা রুপে পুজো করেন। কারণ তাঁদের বিশ্বাস, পাহাড়কে পুজো করলে ক্ষেত হয়ে ওঠে শস্য-শ্যামলা। এই পুজোতে ছাগল, হাঁস, মুরগির বলির চল রয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন ফল আম, জাম, কাঁঠাল ইত্যাদি সহযোগে এই পুজো নিবেদন করে। পাহাড়ের এই পুজো দেখতে প্রছুর মানুষের ভিড় হয়। জঙ্গলমহলবাসীরা মেতে ওঠেন এই উৎসবে। এছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষও জড়ো হন। ভিড় জমান পর্যটকরাও। সব মিলিয়ে জমজমাট আকার নেয় এই পাহাড় পুজো।
মুলত অম্বুবাচির পর একেবারে বর্ষার শুরুতে এই উৎসব শুরু হয় ঝাড়গ্রাম বেলপাহাড়িতে। ফলে গ্রীষ্মের দাবদাহে জরা জীর্ণ গাছগুলো সতেজ হয়ে ওঠে। ঘাগরা, হুদহোদি, গাড়রাশিনি , হাতিপাথরের মতো ঝর্নাগুলির সৌন্দর্য এই সময়ে আরও বেড়ে যায়। যা পর্যটকের কাছে উপরিপাওনা। যে কারণে বর্ষার সময় পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের ভিড় দ্বিগুণ হয়।
ঝাড়গ্রাম ডিস্ট্রিক্ট হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শিবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের বিশ্বাস থেকেই পাহাড় পুজো চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এর একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। আগে অন্তরালেই ছিল এই উৎসব।
সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে পাহাড় পুজোর পরিচিতি তৈরি হয়েছে”। এই সময় ঝাড়গ্রামের আবহাওয়াও অনেকটা ভালো হয়। সব মিলিয়ে একেবারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তার উপরে সপ্তাহান্ত। জেলার পর্যটকের ভিড় উপচে পড়েছে। আগামী পাহাড় পুজোর তারিখ গুলিতেও ভালোই বুকিং রয়েছে।
শনিবার বেলপাহাড়ির গাড়রাশিনি পাহাড়কে পুজো করা হয়। পাহাড় পুজোকে কেন্দ্র করে বসে মেলাও। গাড়রাশিনি পাহাড়ের পার্শ্ববর্তী আগুইবিল, তুলসীবনি, খজপাথর, বেংবুটা, গোহালবেড়া সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের ভিড় উপচে পড়ে।
