অরূপ ঘোষ, ঝাড়গ্রাম : সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে সুবর্ণরেখার নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছে গড়ধরা দেউলবাড় সংযোগকারী ফেরার ওয়েদার ব্রিজ। কুড়িটি গ্রামের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সূত্রের খবর ওই এলাকা পরিদর্শন পরিদর্শন করতে এসেছেন বিধায়ক ডক্টর খগেন্দ্রনাথ মাহাতো।
ঝাড়গ্রামে ক্রমাগত একনাকারের বৃষ্টির প্রভাবে স্তব্ধ হয়ে গেছে জনজীবন। জেলার সাথে একাধিক জায়গার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। দিনের পর দিন চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে সাধারন মানুষজন থেকে শুরু করে যানবাহন চালকদের।
বৃষ্টির পাশাপাশি অন্যদিকে ঝাড়খন্ড রাজ্যের গালুডি ও চান্ডিল ড্যাম থেকে লাগাতার জল ছাড়ার ফলে ফুলে ফেঁপে উঠেছে ঝাড়গ্রাম জেলার সুবর্ণরেখা নদী। এর ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উঠেছে এলাকাবাসীর। সুবর্ণরেখার জল বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের গড়ধরা এলাকার সুবর্ণরেখা নদীর জলে ভেসে পড়ে গেছে গড়ধরা দেউলবার সংযোগকারী ফেরার ওয়েদার ব্রিজ। যার জন্য কুড়িটি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জানা গিয়েছে, গালুডি জলাধার থেকে শুক্রবার প্রায় ২ লক্ষ ৭৮ হাজার ১৮০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে সুবর্ণরেখা নদীতে। নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ব্রিজের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং গড়ধরা-দেউলবাড় এর মধ্যকার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
শনিবার ওই ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে আসেন গোপীবল্লভপুর বিধানসভার বিধায়ক ডক্টর খগেন্দ্রনাথ মাহাতো। এছাড়াও এসেছিলেন সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মদক্ষ মথুর মাহাতো, ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি অনুপ মাহাতো সহ আরো অন্যান্য বিশিষ্টজন। এলাকার পরিস্থিতি দেখে বিধায়ক ডক্টর খগেন্দ্রনাথ মাহাতো এলাকার প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর। তিনি আরো জানিয়েছেন, “মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা মানুষের পাশে আছি। নদীর জলস্তর বাড়ছে, তবে তা এখনও বিপদসীমার নিচে রয়েছে। কিন্তু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নৌকা পারাপার পুরোপুরি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’
পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে ভিডিও ও অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এলাকায় নজরদারি করছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা পরিস্থিতির সামাল দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন।
উল্লেখ্য এই পরিস্থিতিতে এলাকার মানুষজন ঘরবন্দি অবস্থায় আছেন। জলস্তর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় আছে এলাকাবাসী। যদিও ইতিমধ্যেই প্রশাসন ও রাজ্য সরকার পরিস্থিতির ওপর নজরদারি শুরু করেছে। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলি পরিদর্শন করে স্থানীয় মানুষজনদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন গোপীবল্লভপুর এর বিধায়ক।
