ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ গত ছয় মাসে ঝাড়খণ্ডে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জন মাওবাদীর। যা ঝাড়খণ্ড পুলিশের মাওবাদ বিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ঝাড়খণ্ড পুলিশ রাজ্যজুড়ে অভিযান চালিয়ে ১৯৭ জন মাওবাদী ক্যাডারকে গ্রেফতার করেছে।
যাঁরা নিহত বা গ্রেফতার হয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রিজিওনাল কমান্ডার (আরসি), জোনাল কমিটির মেম্বার (জেডসিএম), সাব-জোনাল কমান্ডার (এসজেডসি) এবং এরিয়া কমান্ডার (এসি) এর মতো পদমর্যাদার শীর্ষ মাওবাদীরা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য (সিসিএম – মাওবাদী) বিবেক ওরফে প্রয়াগ মাঝি, যাঁর মাথার দাম ১ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল; অরবিন্দ যাদব ওরফে অশোক, স্পেশাল এরিয়া কমিটি (এসএসি – মাওবাদী); এবং সাহেব রাম মাঝি ওরফে রাহুল, জেডসিএম (মাওবাদী) যার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ লক্ষ টাকা।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ জন মাওবাদী এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ করেছে। যাঁরা আত্মসমর্পণ করেছেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন লাতেহারের এসজেডসি (মাওবাদী) আনন্দ সিং ওরফে কাল্টু সিং ওরফে ভগবান, যিনি ৩ মার্চ ২০২৫ সালে আত্মসমর্পণ করেছেন। পুলিশের দাবি, মাওবাদী কার্যকলাপ এখন কেবল ঝাড়খণ্ডের সারান্দা জঙ্গলে সীমাবদ্ধ, কারণ রাজ্যের অন্যান্য জায়গায় মাওবাদীদের চিহ্ন মুছে ফেলা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, সারান্দায় লুকিয়ে রয়েছে প্রায় ৮৫-৯০ জন মাওবাদী। যেখানে তাঁরা হাজার হাজার আইইডি পুঁতে রেখেছে বলে অভিযোগ, যার ফলে সেই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পৌঁছনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সিপিআই (মাওবাদী) এর একজন সিনিয়র কমান্ডার মিসির বেসরাও, যাঁর মাথার দাম ১ কোটি টাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি চাইবাসার জঙ্গলে রয়েছেন বলে অনুমান। মিসির-সহ আরও শীর্ষ কমান্ডারের সন্ধানে ২০২২ সালের নভেম্বরে চাইবাসার কোলহান এবং সারান্দা জঙ্গলে একটি যৌথ অভিযান শুরু করা হয়।
