ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার প্রাক্তন উপ-রাষ্ট্রপতি কামলা হ্যারিস ফের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন নিজের বক্তব্যে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি, তবু তাঁর মন্তব্যে বোঝা গেছে, রাজনীতি ও জনসেবার ক্ষেত্র থেকে তিনি একেবারেই সরে যাচ্ছেন না। হ্যারিস বলেন, “আমি এখনও শেষ হয়ে যাইনি। সারাজীবন মানুষের সেবায় কাটিয়েছি। এটা আমার রক্তে মিশে আছে।”
এই মন্তব্যের পর থেকেই মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে। হ্যারিস বর্তমানে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম মুখ, এবং তাঁর বক্তব্যে অনেকেই মনে করছেন, তিনি হয়তো ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সাক্ষাৎকারে হ্যারিস জানান, তাঁর বিশ্বাস, আমেরিকা শিঘ্রই একজন নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে পাবে। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজ এমন এক সময়ের দিকে যাচ্ছে, যেখানে নেতৃত্বের ধারণা বদলাচ্ছে। আমি চাই, আগামী প্রজন্ম সেই পরিবর্তনের সাক্ষী হোক।”
হ্যারিস আরও জানান, রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও সহজ পথ বেছে নেননি। বহু বাধা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রা, কিন্তু মানুষের আস্থা ও সমর্থনই তাঁকে সবসময় লড়াই চালিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি বলেন, “সমালোচনার মুখে পিছিয়ে যাওয়া আমার স্বভাবে নেই। যখনই লড়াই করেছি, মানুষের পাশে থেকেছি।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হ্যারিস তাঁর পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে আখ্যা দেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের রাজনীতিতে গণতন্ত্রের বিপদের ইঙ্গিত আগেই তিনি দিয়েছিলেন, আর আজ সেই সতর্কবার্তাই সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। যদিও সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের তালিকায় হ্যারিস শীর্ষে নেই, তবু তিনি জানান, এইসব পরিসংখ্যান তাঁকে প্রভাবিত করে না। তাঁর কথায়, “আমি আগেও নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, জিতেছি, হেরেছি তবে কখনও লড়াই থামাইনি। রাজনীতি আমার কাছে কেবল ক্ষমতার খেলা নয়, এটা মানুষের বিশ্বাসের দায়িত্ব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হ্যারিসের এই ইঙ্গিত শুধু ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রকাশ নয়, বরং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে চলা আলোচনাকেও নতুন দিশা দেবে। ২০২৮ সালের নির্বাচনের এখনও বেশ কয়েক বছর বাকি থাকলেও, কামলা হ্যারিসের এই মন্তব্য নিঃসন্দেহে ভবিষ্যতের মার্কিন রাজনীতিতে নতুন উচ্ছ্বাস ও প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি করেছে।
