ওঙ্কার ডেস্ক: প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও শিল্পপতি কানওয়ার দীপ সিংয়ের পুত্রের নামে থাকা ১২৭ কোটি টাকার শেয়ার সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত গকরল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা। মানি লন্ডারিং মামলায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই শেয়ারগুলি ব্যাভার করে হরিয়ানার পঞ্চকুলায় দুটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছিল।যেগুলি যথাক্রমে, অ্যালকেমিস্ট হাসপাতাল (৪০.৯৪% শেয়ার) ও ওজাস হাসপাতাল (৩৭.২৪% শেয়ার)। এগুলি মিসেস সরুস এগ্রিটেক প্রাইভেট লিমিটেডের নাম রয়েছে, যেগুলি কানওয়ার দীপ সিংয়ের পুত্র করণ দীপ সিং ‘বেনিফিশিয়ালি’ মালিকানাধীন।
এই মামলা্র তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ, সিবিআই এবং লখনও দুর্নীতি দমন শাখা। করনের বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইপিসির ১২০-বি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং ৪২০ ধারায় প্রতারণার মামলা করা হয়।তাদের প্রোমোটার ও ডিরেক্টরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছেন কানওয়ার দীপ সিংও।
ইডির দাবি, এক বিশাল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অবৈধ কালেকটিভ ইনভেস্টমেন্ট স্কিম (CIS)-এর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে বিপুল অর্থ তোলা হয়েছিল। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্লট, ফ্ল্যাট, ভিলা ইত্যাদি প্রদানের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই টাকা তোলা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, মোট ১,৮৪৮ কোটি টাকা অবৈধভাবে তোলা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিভিন্ন জটিল লেয়ারিং প্রক্রিয়ায় একাধিক অ্যালকেমিস্ট গ্রুপ কোম্পানির মাধ্যমে সরিয়ে দুইটি হাসপাতালের নির্মাণ ও শেয়ার হোল্ডিংয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়, যাতে বেআইনি অর্থকে বৈধ বিনিয়োগ হিসেবে দেখানো যায়।
২০২১ সালের ১২ জানুয়ারি কানওয়ার দীপ সিংকে এই মামলায় গ্রেফতার করেছিল ইডি। এরপর ২০২১ সালের ২ মার্চ বিশেষ আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আরও একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত মোট পাঁচটি পৃথক নির্দেশে ইডি প্রায় ২৩৮.৪২ কোটি টাকার সম্পত্তি সাময়িকভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে।
তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, পুরো অর্থ পাচার চক্র এবং লেনদেনের হদিশ পেতে জোর তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত সম্পদ খুঁজে বের করতে এবং পুরো টাকা কোথায় কোথায় গিয়েছে তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
