ওঙ্কার ডেস্ক : কর্নাটকের কুর্শি লড়াইয়ে এখনও কোনো স্থায়ী সমাধান সূত্র এল না কংগ্রেস হাইকমন্ড থেকে। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে বিবাদ ঝুলে রইল। কর্নাটকে সরকার গঠনের প্রাক্কালে কংগ্রেস হাইকমান্ডের তরফে যে শর্ত ছিল মূলত তাকেই সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি জানিয়েছে ডিকে শিবকুমার শিবির। এ নিয়ে দিল্লিতেও ধর্ণা দিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের নেতা সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে শর্ত অনুযায়ী শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রশ্নে দ্বিধায় কংগ্রেস হাইকমান্ড। এদিকে, নভেম্বরেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আড়াই বছরের মেয়াদ ফুরোচ্ছে সিদ্দারামাইয়ার। পূর্ব শর্ত অনুযায়ী বাকি আড়াই বছর মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার কথা শিবকুমারের। এই ইস্যুতে কর্নাটক কংগ্রেসের অন্তর্দলীয় বিবাদ এখন তুঙ্গে। পরিস্থিতি এমন, দেশের মাত্র তিনিটি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেস কি এবার শক্তি হারাতে চলেছে ?
সিদ্দারামাইয়া একজন ওবিসি নেতা। তিনি নিজেই একজন অহিন্দা সম্প্রদায়ের। দলের ১৩৭ জন বিধায়কের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি সমর্থন রয়েছে তাঁর। অতএব, তাঁর সম্মতি ছাড়া নেতৃত্বের পরিবর্তন কঠিন। কারণ, ইতিমধ্যে সিদ্দারামাইয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পূর্ণ মেয়াদ মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, পদত্যাগ করার কোনো কারণ নেই। যদিও কংগ্রেস হাইকমান্ড প্রকাশ্যে জানাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারের কোনো ম্বিরোধ নেই। অথচ ২০২৩ সালে কর্নাটকে ক্ষমতায় আসার পর থেকে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় ইস্যু মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীর অন্তর্দলীয় বিবাদ।
গত সপ্তাহে দিল্লিতে গিয়ে শিবকুমার এবং তাঁর শিবিরের বেশকিছু নেতা দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের কাছে দরবার করেন। তাঁরা জানান শর্ত না মেনে সিদ্দারামাইয়া চেয়ার ছাড়তে রাজি নন। ফলে রাজ্যের মন্ত্রিসভা রদবদলে বিলম্ব হচ্ছে।
এদিকে শিবকুমারের অসন্তোষ রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্বকে বিপন্ন করতে পারে। কারণ রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভোক্কালিগা ভোট ব্যাঙ্কে তাঁর দিকে যা তিনি জনতা দল সেকুলারের কাছ থেকে কংগ্রেসে টানতে পেরেছিলেন। ভোক্কালিগাস-এর এক বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা প্রকাশ্যে উপ-মুখ্যমন্ত্রী শিবকুমারের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। মাইসুর ভোক্কালিগা অ্যাসোসিয়েশন ইতিমধ্যে সিদ্দারামাইয়াকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার জন্য কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এদিকে, দিল্লিতে কংগ্রেসের প্রধান মল্লিকার্জুন খাড়গে ৮ ডিসেম্বর বিধানসভার শীতকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে এই বিবাদের অবসান ঘটাতে দলের সিনিয়র নেতা রাহুল গান্ধীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। খাড়গে বুঝতে পেরেছেন যে বিভক্ত কংগ্রেসকে বিজেপি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করবে। এর ফলে যদি কর্নাটকে কংগ্রেস সরকার বিপদে পড়ে তাহলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষে যা খুবই বিপদজনক। কারণ, কর্ণাটকের একজন প্রবীন বিজেপি নেতা শুক্রবার সকালেই কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তবে পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে খুব শিগগির কংগ্রেসকে হয় সিদ্দারামাইয়া নাহয় শিবকুমার, এঁদের মধ্যে কোনো একজনকে বেছে নিতেই হবে। এবং তা কার্যকর করার আগে অন্তর্বর্তীকালীন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কাউকে বেছে নিতে পারে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরের নাম শোনা যাচ্ছে। যাই হোক না কেন, সিদ্দারামাইয়া স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি নিজে থেকে পদত্যাগ করবেন না। বিশেষ করে দীর্ঘতম কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী থাকার রেকর্ডটি খুব কাছে। এই পরিস্থিতিতে দুই শিবিরের মধ্যে বাকযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে।
