ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর চির প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ হাসিনাও। সেই খালেদা জিয়ার জীবন কতটা বর্ণময় ছিল? তা ফিরে দেখতে এই প্রতিবেদন।
সালটা ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সদ্য স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ছ’বছর পর ১৯৭৭ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হন খালেদা জিয়ার স্বামী জিয়াউর রহমান। তার এক বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পার্টি বা বিএনপি তৈরি করেন। জিয়াউর প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম অন্তর্মুখী স্বভাবের ‘পুতুল’ (খালেদার নাম) জনসমক্ষে আসেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর খুন হওয়ার পর খালেদা সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮২ সালে বিএনপি-র সাধারণ সদস্য হন। পরে স্বামীর হাতে গড়া সেই দলের সহ-সভাপতি হন ১৯৮৩ সালে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রোদ চশমা ছাড়া খালেদা জিয়াকে খুব কমই জন সমক্ষে দেখা গিয়েছে। মাথায় ঘোমটার সঙ্গে তিনি চোখে পরতেন রোদ চশমা। সেই নেত্রীর নেতৃত্বে বিএনপি বাংলাদেশের সেনাশাসক হুসেন মুহাম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পথে নামে। এরশাদের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই জোরদার করতে সেই সময় আরও ছ’টি দলের সঙ্গে জোট করেছিল বিএনপি। ১৯৮৪ সালের দলের সর্বোচ্চ পদে বসেন খালেদা। ১৯৯০ সালে গণবিক্ষোভ হয় এরশাদের বিরুদ্ধে। সেই সময় পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এরশাদ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একাধিকবার খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত বহু বার তিনি গৃহবন্দি হয়েছেন। তা সত্ত্বেও এরশাদ-বিরোধী লড়াই থেকে সরে আসেননি খালেদা। ১৯৯১ সালে খালেদার জনপ্রিয়তা ছিল বাংলাদেশে তুমুল। সেই বছরেই নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এসেছিল বিএনপি। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসাবেও শপথ নিয়েছিলেন খালেদা। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান। ওই বছরেই ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় বারের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তিনি। ২০১২ সালে শেষ বারের মতো ভারত সফর করেছিলেন খালেদা জিয়া। ওই সফরে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, খালেদার জন্ম অবিভক্ত ভারতে। ১৯৪৫ সালে দিনাজপুর জেলার জলপাইগুড়িতে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ইসকন্দর আলি মজুমদার। ইসকন্দর চায়ের ব্যবসা করতেন। দেশভাগের সময় বাংলাদেশে চলে আসেন সপরিবারে খালেদার বাবা।
