ওঙ্কার ডেস্ক: একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যু আর আত্মহত্যার খবরের জেরে ফের শোকের ছায়া খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে। শুক্রবার সকালে ইনস্টিটিউট চত্বরের একটি ঘর থেকে উদ্ধার হল চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ঋতম মণ্ডলের ঝুলন্ত দেহ। যিনি মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল প্রায় পৌনে বারোটা নাগাদ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় থানার পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, ঋতম আত্মহত্যা করেছেন। যদিও মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। নিহত ছাত্রের বাড়ি কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকায়। ঘটনার কিছু আগে ঋতমের বাবা-মা ক্যাম্পাসের সিকিউরিটি রুমে ফোন করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কী নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ, বা কী কথা হয়েছিল সেই বিষয়ে পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
এদিকে একের পর এক ছাত্রের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে আইআইটি ক্যাম্পাসে। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত অন্তত চারজন পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। শুধু এই বছর নয়, গত কয়েক বছর ধরেও একাধিক ছাত্র-ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে খড়গপুর আইআইটি-তে। কখনও হস্টেল ঘর থেকে, কখনও ক্লাসরুম, কখনও ল্যাব পড়ুয়াদের লাশ মিলেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন কোণে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্রদের মানসিক চাপে নজর রাখতে কর্তৃপক্ষ বেশ কিছু উদ্যোগও নিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সমাধানে সহায়তা করতে সম্প্রতি একটি নতুন অ্যাপ চালু করতে চলেছে ইনস্টিটিউশন, যার নাম ‘সেতু’। প্রযুক্তির সঙ্গে সহানুভূতি জুড়ে তৈরি এই অ্যাপের মূল লক্ষ্য, ছাত্রদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে দ্রুত মানসিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
এই ‘সেতু’ অ্যাপ নিয়মিত ছাত্রদের সঙ্গে ভার্চুয়াল কথোপকথনের মাধ্যমে তাদের মানসিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবে। ছাত্রদের আচরণে কোন অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞদের কাছে রিপোর্ট যাবে। ইনস্টিটিউটের আশা, এই ব্যবস্থায় অন্তত কিছুটা হলেও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে। তবে এদিনের ঘটনা ফের একবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, খড়গপুর আইআইটি-তে মানসিক স্বাস্থ্য ও ছাত্র সুরক্ষার চ্যালেঞ্জ কতটা জটিল। অকালেই এক প্রতিভাবান ছাত্রের জীবনাবসানে শোকস্তব্ধ সহপাঠী থেকে অধ্যাপক সকলেরই কণ্ঠে একই প্রশ্ন, এত উদ্যোগ সত্ত্বেও কেন রোখা যাচ্ছে না এই মৃত্যুমিছিল?
ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ। মৃত ছাত্রের পরিবার, বন্ধু ও সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে মৃত্যুর পেছনে কোনও মানসিক চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা একাডেমিক চাপ কাজ করেছে কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ঋতমের মৃত্যু ঘিরে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে পৃথক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হতে পারে।
