ওঙ্কার ডেস্ক : ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে জল্পনা, এমনকি তাঁর মৃত্যুর গুজব আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। ঘটনার সত্যতা জানতে হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে জড়ো হয়। তাঁর গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ চলে। তার মধ্যেই কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার দাবিতে বৃহস্পতিবার চলতি বিক্ষোভ অবস্থানে সামিল হলেন পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি।
ক্রিকেটার থেকে এই রাজনীতিক সোহেল আফ্রিদির আগমনে পরিস্থিতি আরও গম্ভীর হয়ে ওঠে। পাঞ্জাব পুলিশ বাধা দিলে আফ্রিদি বলেন, “যাও, তাদের বলো খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।” তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “জেলের ভেতরে কে বসে আছে – কর্নেল না জেলর ?” তিনি বলেন, “ইমরানের অনুরাগীরা তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে খোঁজখবর নিতে চায়, এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলার কোনো প্রশ্ন ওঠে না।”
এর আগে, আদিয়ালা জেল কর্তৃপক্ষ ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব অস্বীকার করে বলেছিল, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সুপ্রিমো সুস্থ আছেন এবং তাকে কারাগার থেকে স্থানান্তর করা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, “আদিয়ালা জেল থেকে তার স্থানান্তরের খবরের কোনও সত্যতা নেই। তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সম্পূর্ণ চিকিৎসা নিচ্ছেন।”
ইমরান খান সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর দল সরকারের কাছে এই বিষয়ে স্পষ্টীকরণ দাবি করে। তারা বলে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর পরিবারের মধ্যে একটি স্বাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করার আবেদন জানানো হয়েছিল কর্তৃপক্ষের কাছে। কারণ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইমরান খানের সঙ্গে তাঁর বোনেদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে ওঠা এই ব্যক্তি ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবাদ সহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির উচ্চ-নিরাপত্তা আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। গত মাসে, তার দল দাবি করেছিল যে তাকে “নির্জন কারাবাসে” রাখা হয়েছে এবং তার সেলের দরজা সর্বদা বন্ধ থাকে।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বোন আলিমা খান বলেছেন যে তাঁকে “কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্ন” রাখা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। আলিমা জানিয়েছেন, “জেল কর্তৃপক্ষ আদালত অবমাননা করছেন। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। ভালো বিচারক আছেন, কিন্তু তাদের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
তিন থেকে চার সপ্তাহ আগে শেষ পারিবারিক সাক্ষাতের সময় ইমরানের স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল বলে জানিয়েছিলেন আলিমা খান। তাই তাঁরা মানতে পারছেন না যে তিনি বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে মারা গেছেন। সমস্যা হল, আমরা এখন কীভাবে তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হব যেখানে আমরা তিন সপ্তাহ ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছেন না। তাই আমরা কীভাবে জানব যে তিনি ঠিক আছেন ?” ইমরানের বোন নরীন নিয়াজ বলেছেন, “আমরা তাঁর স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। আমরা রাস্তা অবরোধ করিনি, জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিইনি, বা কোনও বেআইনি কাজে জড়িত হইনি। তবুও, কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই, এলাকার রাস্তার আলো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাস্থল অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এরপর পাঞ্জাব পুলিশ কর্মীদের দিয়ে নৃশংস এবং পরিকল্পিত আক্রমণ করা হয়েছিল।”
