নিজস্ব সংবাদদাতা : দমদমের অজিতেশ মঞ্চে সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হল “শাস্ত্রীয় কলা সংসদ”-এর সঙ্গীত সম্মেলন। ১৮ জানুয়ারি, সোমবার দুপুর ৩টেয় এই অনুষ্ঠানের সূচনা করেন বিশ্বভারতীর সহ অধ্যাপিকা ছায়ারাণী মন্ডল। রাত ৯টা পর্যন্ত সঙ্গীতমুখর থাকে এদিনের প্রেক্ষাগৃহ। শুরুতেই, একাডেমির ছাত্রছাত্রীরা পরিবেশন করেন উচ্চাঙ্গসঙ্গীতের বিভিন্ন ধারা। শুভঙ্কর ভট্টাচার্য ও সুমন ঘোষের দ্বৈত তবলা পরিবেশন অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে বৈচিত্র আনে। এঁদের সঙ্গে নাগমায় সঙ্গত করেন শিল্পী অলোক রায়।

এরপর শিল্পী জগন্ময় পাত্রের এসরাজবাদন, সঙ্গে তন্ময় পালের সঙ্গত, বেশ মন কাড়ে এই যুগলবন্দীর পরিবেশনা। এরপর মঞ্চে উপস্থাপিত হন সংগঠনের কর্ণধার ও বিশিষ্ট রাগসঙ্গীত শিল্পী পিয়ালী গঙ্গোপাধ্যায়, সঙ্গে তবলায় নির্মাল্য রায় ও হারমোনিয়ামে অলোক রায়। শ্যামকল্যাণ রাগে বিলম্বিত একতাল, দ্রুত তিনতাল ও একতালে খেয়াল এক অনন্য মাত্রা সংযোজিত করে অনুষ্ঠানে। পরিশেষে রাগ পিলুতে একটি দাদরায় শিল্পীর মুনশিয়ানা প্রকাশ পায়। এরপর সেতারে সুজয় বসু, তবলায় রৌদ্রাস্ব রক্ষিত, রাগ চারুকেশীতে আলাপ-জোড়-ঝালায় আবিষ্ট হন শ্রোতারা।

এ্ররপর মঞ্চে ওঠেন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ, কিরানা ঘরাণার প্রখ্যাত শিল্পী বন্দীশ নওয়াজ উস্তাদ মাশকুর আলি খান। এ বছর অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে তাঁকে “শাস্ত্রীয় কলা সংসদ সম্মান ২০২৬” সম্মাননা জানান হয়। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধারা বহনকারী এই সংস্থার এবং গোয়ালিয়র ঘরাণার প্রবাদপ্রতিম শিল্পী, গুরু ও স্রষ্টা পদ্মভূষণ উস্তাদ আবদুল রাশিদ খানের সুযোগ্যা শিষ্যা ও একাডেমির অধ্যক্ষা পিয়ালী গঙ্গোপাধ্যায়ের দক্ষতার উচ্ছসিত প্রশংসা করেন। এরপর উস্তাদজীর শিষ্যা মিস্ ওজস্বিতা দে খেয়াল পরিবেশন করেন। এরপর রাগ রাগেশ্রীতে বিলম্বিত একতাল ও দ্রুত তিনতালে বর্ষীয়ান শিল্পী উস্তাদ মাশকুর আলি খানের খেয়াল নিবেদন এক অদ্বিতীয় সৃজনের পরিচয় রাখে, তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেন তবলায় উস্তাদ আবদুল রাশিদ খানের দৌহিত্র বিলাল খান সালোনভি ও হারনিয়ামে গৌরব চ্যাটার্জী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, সাহানা আলি খানের মতো আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাচিকশিল্পী নন্দিনী লাহা। স্বয়ং পিয়ালী গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর পুরো দলের পরিচালনায় সমগ্র অনুষ্ঠানটি এক অনির্বচনীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা উপহার দেয় শ্রোতা দর্শক তথা ভারতীয় মার্গসঙ্গীত জগৎকে।
