
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : হঠাৎ ভাঙা শুরু হল কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসের একাংশ ! যাঁরা আসেন, যাঁরা যাতায়াত করেন কফি হাউসের সামনে দিয়ে, সকলই স্তম্ভিত। কিছু না বুঝে উঠলেও কিছু একটা মতলবের আভাস পাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই অবাক হয়ে আর দেখা নয়, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তাঁরা। ইতিমধ্যে খবর ছড়িয়ে গেল, ওই স্থানটি কোনও এক ব্যবসায়ী কিনেছেন। তাই থাম ভেঙে সম্প্রসারণ করার কাজ শুরু হচ্ছিল। আর যায় কোথায়, কফি হাউস জুড়ে যেন ধুন্ধুমার কিছু একটা ঘনিয়ে এলো বলে।
বিষয়টি জানাজানি হতেই চরম উত্তেজিত হয়ে পড়ে কফি হাউস কর্তৃপক্ষ, সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দারাও। বিপদের গন্ধ পেয়ে এগিয়ে আসে পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভা। আপাতত সেই কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে কেন, বা কারা এই কাজ করছিল, তা নিয়ে এখনও মুখ খোলেনি কেউ। গোটা বিষয় নিয়ে বুধবার কলকাতা পুরসভায় ডেপুটেশন জমা দেয় কফি হাউস সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।
কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে এভাবে হেরিজেট বিল্ডিংয়ে ভাঙাভাঙি করা যায় কিনা, করা গেলেও কার অনুমতিতে এই কাজ করা হচ্ছিল! ডেপুটেশন জমা দিয়ে তাঁরা মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সঙ্গেও দেখা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। এই সংগঠনের সম্পাদক বলেন, যেভাবে নির্মাণকাজ হচ্ছিল তাতে বিল্ডিংটাই বিপর্যয়ের স্বীকার হতে পারে। তাই এমন কাজ যাতে না হয়, পুরসভা যাতে গোটা বিষয়টি নজরে রাখে, সেই কারণে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তারা চান, একটি কমিটি গঠন করে কফি হাউস বিল্ডিংয়ের তদারকি করা হোক।
কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যে ব্যাপারটিতে হস্তক্ষেপ করে কাজ বন্ধ করিয়ে দিয়েছে। নোটিসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কফি হাউস কর্তৃপক্ষ পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। তাঁদের বক্তব্য, এই মুহূর্তে কাজ বন্ধ মানে ভবিষ্যতে কাজ চালু হতে পারে না, এমনটা নয়। তাই তাঁরা এর পাকাপাকি সমাধান চান। কর্তৃপক্ষের কথায়, এই বিল্ডিং সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব প্রত্যেকের। কারণ এটি কলকাতা তথা বাংলার ঐতিহ্য।