নিজস্ব সংবাদদাতা : বছরের প্রথম বর্ষাতেই বাড়ছে ডেঙ্গির থাবা। শনিবার সকালে দমদমে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারাল মনজেন্দ্র দত্ত রোডের বাসিন্দা সারণী বন্দ্যোপাধ্যায় (১৩)। সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সারণী পড়ত বৈদ্যনাথ গার্লস হাইস্কুলে। তার অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। একই সঙ্গে ছড়িয়েছে প্রবল আতঙ্ক। পরিবার সূত্রে খবর, কয়েকদিন ধরে জ্বরে ভুগছিল সারণী। প্রথমে তাকে ভর্তি করা হয় স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসায় গাফিলতির কারণে তার ফুসফুসে জল জমে, যা ফলে ভীষণ শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হতে দেখে তাকে তপসিয়ার একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে পরিবারের লোকজন। সেখানেই শনিবার ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
মৃত ছাত্রীর মা গীতিকা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, “প্রথম হাসপাতাল যথাযথ ব্যবস্থা নিলে হয়তো সারণীর জীবন রক্ষা পেত। ওর ফুসফুসে জল জমে গিয়েছিল, সেটা কেউ বুঝতেই পারেনি। দ্বিতীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনেক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।”
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান হরেন্দ্র সিং বলেন, “আমরা নিয়মিত মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে ওই এলাকায় মশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। পরিবার জানিয়েছে, তাঁরা সম্প্রতি দিঘা ঘুরে এসেছেন। সম্ভবত সারণী সেখানে আক্রান্ত হয়েছিলেন।”
স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দমদম এলাকায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা মাত্র দুই। কিন্তু এক কিশোরীর মৃত্যুতে এলাকার মানুষ কার্যকর ও দৃশ্যমান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দাবি করছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এলাকার কিছু জায়গায় এখনও জল জমে থাকে, মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হয়। সেগুলি নিয়ে পুরসভা বা প্রশাসনের দিক থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
