নিজস্ব সংবাদদাতা : শহরে একটি ভুয়ো চাকরির চক্রের পর্দাফাঁশ করল কলকাতা পুলিশ। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন যুবকের কাছ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ ওঠে ওই চক্রের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশ সূত্রে এই খবর মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের অধিকর্তা বলে দাবি করে ওই ব্যক্তি কলকাতার তিনজনকে প্রতারিত করে। অভিযোগ পেয়ে দক্ষিণ কলকাতার পাটুলি থানার পুলিশ অভিযুক্তের তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ শুক্রবার রাতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। তার নাম কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জি। যার কাছে পাঁচটি আধার কার্ডও পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পাটুলির একটি বাজারে ওই ব্যক্তি দুই যুবক এবং এক যুবতীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনি নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার দাবিও করেছিলেন। এমনকি তাঁদের কাছে জাল পরিচয়পত্রও দেখিয়েছিলেন। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিন ব্যক্তির কাছ থেকে ৩২ লক্ষ টাকা হাতিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।
চাকরিপ্রার্থীরা তাদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের গয়না বন্ধক রেখে টাকা সংগ্রহ করেছিল। ৩২ লক্ষ টাকার মধ্যে ২২ লক্ষ টাকা অনলাইনে এবং ১০ লক্ষ টাকা নগদ দিয়েছিলেন। এই টাকা পাওয়ার পরই কৃষ্ণেন্দু চ্যাটার্জি নামে ঐ ব্যক্তি তাঁদের সঙ্গে সমস্তরকম যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। যার ফলে তাঁরা পাটুলি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে, পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন যে লোকটির লেক টাউন, বাগুইআটি এবং পাটুলি সহ বিভিন্ন স্থানে ঠিকানা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তার প্রতিটি ঠিকানার জন্য আলাদা আলাদা আধার কার্ড ছিল। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে কলকাতা পুলিশ এমন পাঁচটি আধার কার্ড খুঁজে পেয়েছেন। জানা গেছে, লোকটি প্রতিবার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এক একটি আধার কার্ড পেয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে যে লোকটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, “আমরা জানার চেষ্টা করছি কী ভাবে সে এই জাল আধার কার্ড তৈরি করেছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা। তদন্ত চলছে।”
কলকাতায় এধরণের প্রতারণা চক্র নতুন নয়। মাঝেমধ্যে এইধরণের ঘটনা সামনে আসে। এরকমই এক ঘটনার হদিশ মেলেছিল কলকাতা পুরসভার অন্দরমহলে। চাকরি দেওয়ার নামে কীভাবে একটি প্রতারণা চক্র সক্রিয় ছিল তা সামনে আসে কলকাতা পুলিশের তৎপরতায়। ভুয়ো নিয়োগ নিয়ে সেবার ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে। এর আগেও পুরসভার অন্দরে কাউন্সিলর রুমে বসেই প্রতারণা চক্রের শিকার হয়েছিল এক যুবক। তারপর থেকেই সজাগ ছিল কলকাতা পৌরসভা। পুরসভার আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কর্মীদের নজরদারির জেরে হাতেনাতে ধরা পড়ে ওই প্রতারণা চক্রের তিনজন।
কলকাতা পুরসভার অন্দরে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ। ভুয়ো নিয়োগপত্র দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল তিনজন চক্রী। নিকাশি বিভাগের এক কর্মীর প্রথম নজরে আসে বিষয়টি। সন্দেহজনকভাবে তিন জনকে বিভিন্ন কাগজপত্র নাড়াচাড়া করতে দেখে জিজ্ঞাসা করেন কোন বিভাগের কর্মী? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে উত্তেজিত হয়ে পরে তিন ব্যক্তি। এই ঘটনায় পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আবেদন জানায় পুরসভা কর্তৃপক্ষ। পুরসচিব হরিহর প্রসাদ মন্ডলের নির্দেশের নিউমার্কেট থানায় অভিযোগ দায়ের করে কলকাতা পুরসভার নিরাপত্তা আধিকারিকেরা । তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর নিউমার্কেট থানা তদন্ত শুরু করেছে। ধৃত তিন জনের মধ্যে দু’জন ছিল পশ্চিম বর্ধমানের বাসিন্দা। আর একজন কলকাতা নিউ মার্কেট এলাকার।
এধরণের অন্য একটি ঘটনায় উত্তাল হয়েছিল কলকাতা। সেবার বেসরকারি সংস্থায় ভুয়ো নিয়োগের প্রতারণা চক্রের সন্ধান মেলে নিউটাউনে। অভিযোগ ছিল, ভুয়ো নিয়োগ পত্র দিয়ে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা চালাত এই চক্র। ২ জন মহিলা সহ এই চক্রের মোট তিন জনকে গ্রেফতার করেছিল ইকোপার্ক থানার পুলিশ। বিভিন্ন বেকার যুবক-যুবতীদের ফোন করে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের অফিসে ডাকা হত। ফর্ম ফিলাপের নাম করে টাকা নেওয়া হত গ্রাহকদের কাছ থেকে। কিছুদিন পর তাঁদের বিভিন্ন সংস্থায় চাকরির ভুয়ো নিয়োগ পত্রও দেওয়া হত। তার বিনিময়ে মোটা টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত বলে অভিযোগ ওঠে।
এরকমই আরেক ঘটনায় সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে ৫৮ লক্ষ টাকার প্রতারণার অভিযোগ আসে পুলিশের কাছে। তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। মধ্য কলকাতার রিপন স্ট্রিটের বাসিন্দা সরফরজ খানকে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতারণা করা হয়েছিল। অভিযোগ, সরফরজের কাছ থেকে ওই প্রতারণা চক্রটি হাতিয়ে নিয়েছিল ৫৮ লক্ষ টাকা। টাকা ফেরত চাইলে তাকে ভুয়ো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এর পরই পার্ক স্ট্রিট থানায় প্রতারক আতিফ আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন সরফরজ। তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা। অবশেষে গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত আতিফ আলম।
