ওঙ্কার ডেস্ক: দক্ষিণ কলকাতার বাঁশদ্রোণী এলাকায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক সিগারেট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকার সিগারেট লুঠের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় প্রতারণার কৌশল দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও। অভিযোগ পাওয়ার পরই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বাঁশদ্রোণী থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যবসায়ীর কাছে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের পুলিশকর্মী বলে পরিচয় দেন। তাঁরা দাবি করেন, এলাকায় বিশেষ তল্লাশি অভিযান চলছে এবং সেই কারণেই সিগারেটের চালান ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করতে হবে। পুলিশের পোশাক বা আচরণে কোনও অসঙ্গতি চোখে না পড়ায় ব্যবসায়ী প্রথমে তাঁদের কথায় বিশ্বাস করেন। এরপর অভিযুক্তরা সিগারেটের কার্টনগুলি পরীক্ষা করার নামে নিজেদের দখলে নেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেগুলি নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। ঘটনার পর ব্যবসায়ীর সন্দেহ হলে তিনি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেন। তখনই তিনি জানতে পারেন, ওই সময়ে এমন কোনও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়নি এবং যাঁরা এসেছিলেন তাঁরা প্রকৃতপক্ষে পুলিশকর্মী নন। এরপরই তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, প্রতারকরা প্রায় ৮৫ হাজার টাকার সিগারেট নিয়ে চম্পট দিয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা আশপাশের দোকান ও রাস্তায় লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। অভিযুক্তদের চলাফেরা, ব্যবহৃত গাড়ি এবং সম্ভাব্য পালানোর পথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি এলাকায় এর আগে একই ধরনের প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবেই পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে এই লুঠের ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের অপরাধে জড়িত কোনও সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।