ওঙ্কার ডেস্ক: ২১ জুলাই সভা ঘিরে যেন বিপাক কাটছে না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অনেক দলীয় এবং আইনি জটিলতা কাটিয়ে শেষ মুহুর্তে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি মিললেও সমাবেশের রিপোর্ট দেখে বিশেষ খুশি না কলকাতা হাইকোর্ট। সমাবেশে উপস্থিত কর্মীর সংখ্যা বেঁধে দেওয়ার পরও টা মানেনি কালীঘাট তৃণমূল বলে মমতার আইনজীবীর উপর চড়াও হন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। ২১ জুলাই সভা নিয়ে মমতা পন্থী তৃণমূলকে সতর্কবার্তা দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
বিধানসভা নির্বাচনের পর ধরাশায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরাচরিত শহিদ দিবস পালনের জায়গার অনুমতি না পাওয়ায় দীর্ঘ আইনি জটিলতার সম্মুক্ষীন হয়। এত দিন ধর্মতলায় মহা সমারোহে পালিত হত তৃণমূলের শহিদ দিবস। বঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের টুকরো টুকরো হয়ে বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল। আর প্রত্যকে তৃনমূলই শহিদ দিবস পালনে উদ্যোগী হয়ে ওঠে। ঋতব্রত পন্থী তৃণমূল গান্ধিমূর্তির পাদদেশে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পায়। অন্যদিকে রাজ্য কংগ্রেস শহিদ মিনারে পালন করে ২১ জুলাই। আবার তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাংসদেরা দিল্লিতে শহিদদের উদ্দেশ্যে সম্মানজ্ঞাপন করেন। এদিকে হাইকোর্ট থেকে শর্তসাপেক্ষ অনুমতি পায় কালীঘাট তৃণমূল। বিড়লা তারামন্ডলের সামনে মাত্র ৩ ঘন্টার জন্য ২৫০০ মানুষের উপস্থিতিতে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পায় মমতারা। কিন্তু উচ্চ আদালতের মতে সেই শর্ত উলঙ্ঘন করেছে কালীঘাট তৃণমূল।
কলকাতা হাইকোর্ট কালীঘাট তৃণমূলের থেকে ২১ জুলাই সভার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। মমতার আইনজীবীর থেকে জানতে চাওয়া হয় সমাবেশে কোনরকম অশান্তি হয়েছিল কিনা। পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েনের দিকটিও নজরে আনেন বিচারপতি। কিন্তু সমাবেশের সময়সীমা এবং দলীয় কর্মীর সংখ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট নয় আদালত। সেই প্রসঙ্গ তুলে তৃণমূলকে সতর্কবার্তা দেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। অতীতে একাধিক বছর আদালতের আইন অমান্য করে সমাবেশ করে গেছে তৃণমূল বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালাবদলের পর ২১ জুলাই সমাবেশ ঘিরে ফের বিপাকে মমতা।