ওঙ্কার ডেস্ক: সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বিজেপির মুখপাত্র হিসেবে বহু বার অংশ নিয়েছেন। তবে সে সব এখন অতীত হতে চলেছে। কেন্দ্রের শাসকদলের সঙ্গে সম্পর্ক ভাঙলেন শেহজাদ পুনাওয়ালা। দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ব্যক্তিগত কারণে তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন শেহজাদ। তবে পদ্ম শিবির ছাড়লেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আমৃত্যু অনুসরণ করে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন এই নেতা।
বৃহস্পতিবার শেহজাদ পুনাওয়ালা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলের বায়ো বা পরিচিতি অংশটি বদলে ফেলেছেন। সেখানে তিনি ‘বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র’ পরিচয় মুছে ফেললেও ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজীবন অনুসারী’ লিখে রেখেছেন। বায়োতে তিনি উল্লেখ করেছেন— ‘ধর্ম: ইসলাম, সংস্কৃতি: হিন্দু, আদর্শ: ভারতীয়, লেখক: ‘জিএসটি কি যাত্রা’; প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আজীবন অনুসারী।’ পেশায় আইনজীবী শেহজাদ পুনাওয়ালা কংগ্রেসের হাত ধরে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধীকে দলের সভাপতি পদে বসানোর লক্ষ্যে ওই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। কংগ্রেস ছাড়ার পর তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। পদ্ম শিবির তাঁকে দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়। সম্প্রতি শেহজাদ পুনাওয়ালা একটি টিভি চ্যানেলে দেওয়া পুরনো সাক্ষাৎকারের একটি অংশ শেয়ার করেছিলেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন, সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় হয়েছে।
উল্লেখ্য, শেহজাদ পুনাওয়ালা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ তহসিন পুনাওয়ালার ছোট ভাই। শেহজাদ কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানের পর যখন একের পর এক টিভি চ্যানেলে বিতর্কে অংশ নিয়ে হাত শিবিরকে আক্রমণ করেছেন তখন থেকে দুই ভাইয়ের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়। তহসিন পুনাওয়ালা কংগ্রেসের ঘোষিত সমর্থক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের সমালোচক। দুই ভাই প্রায়শই সংবাদ মাধ্যমে সরাসরি বিতর্কে মুখোমুখি হন। পরস্পরকে রাজনৈতিক কটাক্ষ করেন।