ওঙ্কার ডেস্ক: বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় ফের স্বস্তি পেলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে আপাতত কোনও ‘দমনমূলক’ পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই সুরক্ষা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।
সোমবার, ১৭ অগস্ট মামলাটির শুনানি হয়। বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে শুনানি হয়। অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন ভট্টাচার্য। এই মামলার তদন্ত করছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি। শুনানিতে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার তদন্তের অগ্রগতি জানান। তাঁর দাবি, ফরেনসিক রিপোর্ট ইতিমধ্যেই হাতে এসেছে। সেই রিপোর্টে কয়েকজন বিধায়কের সই জাল হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ৭০ জন বিধায়কের সই সংক্রান্ত নথি ছিল। অভিযোগ ছিল পাঁচ জন বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। ফরেনসিক পরীক্ষায় তাঁদের মধ্যে তিন জনের সই জাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
এই মামলায় সংশ্লিষ্ট পাঁচ বিধায়ক আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানিয়েছেন। তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়েও বিচারপতি প্রশ্ন করেন। সই জালিয়াতি কীভাবে হয়েছে, তা জানতে চান বিচারপতি চন্দ। সিআইডি কোন তথ্যের ভিত্তিতে জালিয়াতির অভিযোগ করছে, সেটিও জানতে চান তিনি। রাজ্যের দাবি, অভিষেকের উপস্থিতিতে বিধায়কদের সই জাল করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৬ মে কোনও বৈঠক বা রেজোলিউশন হয়নি। তবে সেই তারিখের রেজোলিউশন লেখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। বিধায়কদের ওই দিন সইও করানো হয়নি বলে রাজ্যের বক্তব্য। সিআইডির দাবি, পরে ১৯ মে বিধায়কদের সই নেওয়া হয়। অথচ ৬ মে তারিখ দেখিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্যাডে একটি রেজোলিউশন তৈরি করা হয়। সেই নথিই বিধানসভার স্পিকারের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে আদালতে জানায় রাজ্য। এরপর পাঁচ বিধায়ক তাঁদের সই জাল হওয়ার অভিযোগ করেন।
ফরেনসিক রিপোর্টেও জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি রাজ্যের। তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিষেকের বিরুদ্ধে সরাসরি জালিয়াতির যোগ আদালত প্রাথমিকভাবে দেখতে পাচ্ছে না। শুনানির সময় বিচারপতি চন্দ সিআইডির একটি বয়ান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ওই বয়ানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের উল্লেখ ছিল। বিচারপতির প্রশ্ন, বিধায়কদের একসঙ্গে থাকার কথা বলা ছাড়া ওই বয়ানে আর কী রয়েছে? সেই বক্তব্য থেকে জালিয়াতির প্রমাণ কীভাবে পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।