ওঙ্কার ডেস্ক: পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানায়, এই মামলার তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক এখনও স্পষ্ট নয় এবং সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সেই তথ্য সামনে আসতে পারে।
ইডির দাবি, পুরনিয়োগ দুর্নীতির জাল অনেক গভীরে বিস্তৃত এবং সুজিত বসুর ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিশদে জানতে তাঁর সরাসরি জেরা প্রয়োজন। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, দমদম পুরসভায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে যে নথি ও তথ্য হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর একটি তালিকার মধ্যে অন্তত ৪০ জনের নাম সুজিত বসুর সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। এই সুপারিশ কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় কার্যকর হয়েছিল, তা জানতেই তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া জরুরি বলে আদালতে জানায় ইডি।
তদন্তকারী সংস্থা আরও দাবি করে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত অয়ন শীলের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক নথি ও তথ্যপ্রমাণে সুজিত বসুর নাম উঠে এসেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ও তাঁর পরিবারের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। অভিযোগ, প্রায় ৮ কোটি টাকার সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেনের যথাযথ উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ইডির বক্তব্য, এই আর্থিক অনিয়ম এবং নিয়োগ দুর্নীতির সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখতেই তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালতে ইডির আইনজীবীরা আরও জানান, সুজিত বসু অতীতে একাধিকবার তলব করা হলেও তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেননি। বারবার সমন পাঠানো সত্ত্বেও হাজিরা এড়িয়ে যাওয়া এবং তথ্য প্রদানে অসঙ্গতির অভিযোগও তোলা হয়। তদন্তকারীদের মতে, তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি হওয়ায় বাইরে থাকলে তদন্তে প্রভাব বিস্তার, সাক্ষীদের উপর চাপ সৃষ্টি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, সুজিত বসুর আইনজীবী এই গ্রেপ্তারি ও হেফাজতের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, যেসব নথি বা তথ্যের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে, তার অনেকটাই বহুদিন ধরেই তদন্তকারী সংস্থার হাতে ছিল। ফলে এতদিন পরে গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। প্রতিরক্ষার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সুজিত বসু কখনও তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেননি এবং তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে।