ওঙ্কার ডেস্ক: পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রীদের জন্য বড়সড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। প্রতিদিনের ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ, অফিসযাত্রীদের ভোগান্তি এবং ধর্মীয় ও স্থানীয় পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ-রানাঘাট-কৃষ্ণনগর-আমঘাটা এবং শিয়ালদহ-লালগোলা শাখায় একাধিক নতুন লোকাল ও মেমু ট্রেন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের এই পদক্ষেপে নদিয়া, মুর্শিদাবাদ সহ বিস্তীর্ণ এলাকার হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর যাতায়াত আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হতে চলেছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর-আমঘাটা নতুন সিঙ্গল লাইনে অতিরিক্ত দুই জোড়া লোকাল ট্রেন চালু করা হচ্ছে। আগামী ১৩ মে থেকে এই নতুন পরিষেবা শুরু হবে। নতুন ট্রেন চালুর ফলে কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপ, মায়াপুর এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা আরও বেশি ট্রেন সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে মায়াপুরে ধর্মীয় পর্যটনের গুরুত্ব বাড়ায় এই রুটে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই কারণেই সকাল ও রাতের ব্যস্ত সময়ে অতিরিক্ত ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ৩১৮৮৭ নম্বর কৃষ্ণনগর-আমঘাটা লোকাল ভোর ৫টা ২০ মিনিটে কৃষ্ণনগর থেকে রওনা দেবে। বিপরীতমুখী ৩১৮৮৮ নম্বর ট্রেনটি আমঘাটা থেকে ভোর ৫টা ৪৩ মিনিটে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে ছাড়বে। এছাড়া রাতের যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে ৩১৮৮৯ নম্বর কৃষ্ণনগর-আমঘাটা লোকাল রাত ১০টা ১৫ মিনিটে কৃষ্ণনগর থেকে ছাড়বে এবং ৩১৮৯০ নম্বর ট্রেন আমঘাটা থেকে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। শুধু কৃষ্ণনগর-আমঘাটা নয়, শিয়ালদহ-লালগোলা শাখাতেও বাড়ানো হচ্ছে ট্রেন পরিষেবা। ১৪ মে থেকে এই দীর্ঘ রুটে নতুন মেমু রেক চালু করা হবে। আধুনিক এই মেমু ট্রেনগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি আরামদায়ক, দ্রুতগামী এবং যাত্রীবান্ধব হওয়ায় দীর্ঘপথের যাত্রীদের জন্য তা বিশেষ সুবিধাজনক হবে। একইসঙ্গে শিয়ালদহ-রানাঘাট রুটেও মেমু পরিষেবা চালু করা হচ্ছে, যা প্রতিদিনের যাত্রীচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, যাত্রীস্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি এবং পরিষেবার মানোন্নয়নই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী শিয়ালদহ ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় যাতায়াত করেন। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, পড়ুয়া, ব্যবসায়ী এবং পর্যটকদের কথা বিবেচনা করেই ট্রেন সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের আধিকারিকদের মতে, নতুন ট্রেন চালুর ফলে শুধু যাত্রীভোগান্তি কমবে না, বরং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলার বহু মানুষ প্রতিদিন কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় কাজের সূত্রে যাতায়াত করেন। ফলে এই অতিরিক্ত ট্রেন পরিষেবা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি এনে দেবে। নতুন পরিষেবা চালুর ঘোষণায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত ট্রেনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন নিত্যযাত্রীরা। অবশেষে সেই দাবির প্রেক্ষিতেই পূর্ব রেলের এই উদ্যোগ যাত্রীমহলে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।