নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতা পুরসভার সচিব কিশোর কুমার বিশ্বাসকে ‘হেনস্থা ও শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা’র অভিযোগে সোমবার সকালে কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদীয় সদস্য বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়কে তলব করলো নিউ মার্কেট থানার পুলিশ।
শনিবার কিশোর কুমার বিশ্বাস নিউ মার্কেট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তৃণমূল পরিচালিত এই পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের শাসক দলের কাউন্সিলর চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে, নিউ মার্কেট থানার পুলিশ সোমবার বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার কলকাতা পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে পুরসভার মাসিক অধিবেশন বাতিল করেছিলেন। তবে, সেই নির্দেশ অমান্য করে অধিবেশন হয়। কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় সমস্ত কাউন্সিলরকে ওই অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী অধিবেশন হয়। যদিও পুরসভার অধিবেশন কক্ষটিতে তালা দেওয়া থাকায় অধিবেশনটি হয় দর্শনার্থী কক্ষে।
এরই মধ্যে, তৃণমূল কাউন্সিলররা পৌর ভবনের কাউন্সিলর ক্লাবে বিক্ষোভ দেখান। অধিবেশন কক্ষ খোলার দাবিতে একটি প্রতিনিধিদল পুরসভার সচিবের কার্যালয়ে যায়। জানা গেছে, প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়। সে সময় সচিবের প্রতি অশালীন আচরণ ও হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
এরপর পুরসভার সচিব এবং কমিশনার নিউ মার্কেট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তারই ভিত্তিতে নিউ মার্কেট থানা বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায়কে তলব করে। জানা গেছে, তাঁকে একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চায়, তাই তাঁকে তাঁকে তলব করা হয়েছে বলে পুলিশা সূত্র জানা গেছে।
সচিবের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈশ্বনর চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমার বাকস্বাধীনতা আছে, আমি মেয়র পরিষদের একজন সদস্য। আমার সেই অধিকার আছে। আমি তাঁদের পুরসভার কক্ষ খুলে দিতে বলেছিলাম। যদি বাকস্বাধীনতা না থাকে, যদি আমাদের মেয়র পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের অধিকার না থাকে, তাহলে ভারতে গণতন্ত্রই বিপন্ন।”
উল্লেখ্য যে, রবিবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছিলেন যে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে হয়রানি বা অপমান করা সহ্য করা হবে না। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে সচিবকে যেভাবে হয়রানি করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।