ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা সংগঠনকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। দলের অন্যতম শীর্ষ নেত্রী তথা এনসিপিআই-এর সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজার বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বৈঠকের পর থেকেই তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ, নেতৃত্ব এবং দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রের খবর, সম্প্রতি মহিলা সংগঠনের বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয়, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি এবং সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে দুই নেত্রীর মধ্যে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকের পর প্রকাশ্যে কেউই বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি। ফলে বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বেড়েছে। জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে তৃণমূলের মহিলা সংগঠনের নেতৃত্ব নিয়ে দলের অন্দরে কিছু অসন্তোষ ও মতপার্থক্যের কথা শোনা যাচ্ছিল। সংগঠনের একাংশের নেত্রীদের অভিযোগ, সাংগঠনিক কাজ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে সকলকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সক্রিয়তা এবং শশী পাঁজার সঙ্গে তাঁর বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কার্যত ধরাশায়ী তৃণমূল। দলের বিধায়ক, সাংসদ এবং নেতা কর্মীর অধিকাংশই কালীঘাট তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা শ্রেয় মনে করেছে। বিধানসভার সিংহভাগ বিধায়কদের নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে, এবং পরে বহু তৃণমূল ঘনিষ্ট নেতা হাত ছেড়ে গেছে মমতার। অন্যদিকে দিল্লীর রাজ্যসভার সাংসদেরা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছে। আবার লোকসভায় ২০ জন সাংসদদের নিয়ে তৃণমূল ছেড়ে এনডিএ-র শরীক রাজনৈতিক দলে নাম লিখিয়েছে। ফলে শশী পাঁজার সঙ্গে কাকলীর এই বৈঠক বেশ তাৎপর্যপুর্ন।