ওঙ্কার ডেস্ক: স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ট্যাবলো প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় স্বাধীনতা দিবস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এ দিন অনুষ্ঠানের আগে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এরপর নির্ধারিত সময়ে রেড রোডের মূল মঞ্চে পৌঁছে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন মুখ্যমন্ত্রী। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। গোটা রেড রোড জুড়ে তৈরি হয় দেশাত্মবোধের আবহ। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, পুলিশকর্তা, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ এবং দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার ইতিহাস স্মরণ করেই শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।
এ বারের অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর পরিবেশনা। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর দেশাত্মবোধক এই গান পরিবেশিত হলে অনুষ্ঠানস্থলে বিশেষ আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। স্বাধীনতার ইতিহাসে ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্বের কথা মাথায় রেখেই এ দিনের অনুষ্ঠানে গানটিকে বিশেষ জায়গা দেওয়া হয়। এর পর শুরু হয় কুচকাওয়াজ। রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখা এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক বিভাগের প্রতিনিধিরা কুচকাওয়াজে অংশ নেন। সুশৃঙ্খল পদক্ষেপে বাহিনীর সদস্যদের এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য রেড রোডের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
কুচকাওয়াজের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দফতর ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরতে একাধিক ট্যাবলো প্রদর্শন করা হয়। ট্যাবলোগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের নানা দিক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ও ঘটনাকেও তুলে ধরা হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে তৈরি ট্যাবলোও বিশেষভাবে নজর কাড়ে। ইতিহাস ও সমকালীন সরকারি উদ্যোগকে একই অনুষ্ঠানে তুলে ধরার ফলে এবারের কুচকাওয়াজে বৈচিত্র্য দেখা যায়।
স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এ দিন পুলিশ প্রশাসনের আধিকারিকদেরও বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়। কর্মক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান এবং দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে ১৪ জন আইপিএস আধিকারিককে ‘মুখ্যমন্ত্রীর পদক’ প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা এই সম্মান গ্রহণ করেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পদক দেওয়া হয়েছে।