ওঙ্কার ডেস্ক: সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলায় সোমবার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। দলের দৈনন্দিন সাংগঠনিক কাজকর্ম চালানোর জন্য ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সীমিত পরিমাণ অর্থ ছাড় করা যায় কি না, সেই বিষয়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কাছে জবাব তলব করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, মূল মামলার মেরিটে তারা এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করতে চাইছে না। বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের বেঞ্চে মামলার শুনানির সময় তৃণমূলের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী কপিল সিব্বল দাবি করেন, দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায় কর্মচারীদের বেতন দেওয়া-সহ নিত্যদিনের সাংগঠনিক ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য, সীমিত পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের অনুমতি না থাকলে দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম কার্যত ব্যাহত হবে।
এর জবাবে ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু জানান, দলের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি এবং অন্য কিছু অ্যাকাউন্টে এখনও অর্থ রয়েছে। তবে তৃণমূলের পক্ষ সেই দাবি নিয়ে আপত্তি তোলে এবং আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তির আবেদন জানায়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, আদালত নিযুক্ত প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে দলের দৈনন্দিন খরচের জন্য কিছু অর্থ ছাড় করা সম্ভব কি না, সেই বিষয়ে ইডি তাদের অবস্থান জানাক। আদালত স্পষ্ট করে দেয়, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টই নেবে। আপাতত সীমিত পরিসরে আর্থিক স্বস্তি দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্ত চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে ইডি। এর বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করলেও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি মেলেনি। এরপর সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল। এদিন শুনানির শেষে ইডিকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়ে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে শীর্ষ আদালত।