ওঙ্কার ডেস্ক: তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনাকে ঘিরে শোক, আতঙ্ক এবং ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। দুর্ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং উদ্ধার অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং সেনার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি দ্রুততম সময়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের নির্দেশ দেন। এখনও পর্যন্ত ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যুর খবঅর সামনে এসেছে। ১৮ জন আহত অবস্থায় SSKM-এ চিকিৎসারত। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে। বাড়তে পারে আহত এবং নিহতের সংখ্যা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল উদ্ধারকাজ সম্পূর্ণ করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তিনি জানান, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে সরকার রয়েছে এবং প্রশাসনের সব বিভাগকে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এরই মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ দাবি করেছেন, যে কাঠামোটি ভেঙে পড়েছে সেটি সকাল থেকেই অস্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করছিল। অনেকের অভিযোগ, কাঠামোর বিভিন্ন অংশে ফাটলও দেখা গিয়েছিল। বাসিন্দাদের বক্তব্য, বিপদের ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল, কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া গেলে হয়তো এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘটনা পরিদর্শনে গিয়ে জানান, নির্মানটি অবৈধভাবে নির্মিত। বর্ষার কারণে মাটি শিথিল হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ঘটনার পূর্ণতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, ধসের প্রকৃত কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। নির্মাণ সংক্রান্ত সমস্ত নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির ভূমিকা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে যদি কোনও ধরনের গাফিলতি, নিয়মভঙ্গ বা বেআইনি নির্মাণের প্রমাণ মেলে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি পুর্ববর্তী তৃণমূল সরকার এবং তৎকালীন কলকাতার মেয়রকে দোষারোপ করেছেন। পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য একটি দল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান এই দলে কলকাতা পুরসভা, গণপূর্ত বিভাগ, নাগরিক প্রতিরক্ষা, অগ্নি নির্বাপক বিভাগ, এবং কলকাতা পুলিশ থাকবে।
ধসের পর মুহূর্তের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ। এলাকাজুড়ে শুরু হয় চাঞ্চল্য। স্থানীয় মানুষজন প্রথমে নিজেরাই উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে একে একে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সেনা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল। বিশাল কংক্রিটের চাঙড়, লোহার বিম এবং ধসে পড়া কাঠামোর অংশ সরিয়ে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয় ভারী যন্ত্রপাতিও। ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে যাতে উদ্ধারকাজে কোনও বাধা না আসে। হাসপাতালগুলিকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার উপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা হয়েছে, যাতে নিখোঁজ বা আহতদের সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা তথ্য জানতে পারেন।