ওঙ্কার ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হালিশহরে বিক্ষোভ ও হামলার অভিযোগের প্রতিবাদে সোমবার বিধানসভা চত্বরে কর্মসূচি পালন করল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সেই কর্মসূচিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের তিন বিধায়কের উপস্থিতি ঘিরে দলের অন্দরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। খিদিরপুরের বিধায়ক আবদুল খালেক মোল্লা, বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক তৌসিফুর রহমান এবং বারুইপুর পূর্বের বিধায়ক বিভাস সর্দারকে এদিন কালীঘাট নেতৃত্বের সঙ্গে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা যায়।
এদিন বিধানসভা চত্বরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদে সরব হন তৃণমূলের একাধিক নেতা ও বিধায়ক। হাতে ছিল বিজেপি-বিরোধী পোস্টার ও স্লোগান। দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক বিধায়ক ও নেতা কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে নজর কেড়ে নেয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের তিন বিধায়কের উপস্থিতি।
ঘটনার সূত্রপাত হালিশহরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কেওটকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। তিনি তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এলাকায় তোলাবাজি ও মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে হালিশহর থানার লকআপে তাঁর অসুস্থ হয়ে পড়া এবং মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে। পরিবারের তরফে পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়। তাঁদের দাবি, পুলিশ হেফাজতেই বিরজুকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশের বক্তব্য, লকআপে তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার হালিশহরে যাওয়ার পথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল, কাদা এবং জুতো ছোড়া হয় বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি দলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয়েছে এবং বাংলার পরিস্থিতি ক্রমশ গুন্ডাদের হাতে চলে যাচ্ছে।